তৃণমূল নেতাদের লক্ষ্য করে ডিম বৃষ্টি! রাজ্যে শুরু জনগণের ‘ডিমোক্রেসি’

তৃণমূল নেতাদের লক্ষ্য করে ডিম বৃষ্টি! রাজ্যে শুরু জনগণের ‘ডিমোক্রেসি’

রাজ্যের শাসকদলের একাধিক হেভিওয়েট নেতা ও মন্ত্রীদের লক্ষ্য করে একের পর এক ডিম ছোড়ার ঘটনায় উত্তাল পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতি। একদিকে যেমন এই ঘটনাকে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলে দাবি করছে বিরোধীরা, অন্যদিকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস একে সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ‘ডিম-কাণ্ড’ এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

নিরাপত্তায় গাফিলতি নাকি জনরোষ

সম্প্রতি খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত কালীঘাটের বাসভবনের বাইরে বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের মাথায় ডিম ছোড়ার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তা বলয় নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন খোদ কুণালবাবু। তাঁর দাবি, এই হামলার পিছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে এবং ধৃতদের সঙ্গে সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে হওয়া সিআইডি অভিযানের যোগসূত্র থাকতে পারে। এর আগে আড়িয়াদহে তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের গাড়ি লক্ষ্য করে এবং আদালতে পেশ করার সময় ভাঙড়ের এক তৃণমূল যুব নেতার দিকেও ডিম ও ‘চোর’ স্লোগান উড়ে আসে।

রাজনৈতিক সমীকরণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই ধারাবাহিক ডিম ছোড়ার ঘটনাকে জনগণের ‘ডিমোক্রেসি’ (Deemocracy) বা ‘ডিম-তন্ত্র’ বলে কটাক্ষ করেছেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর মতে, গত ১৫ বছরের দুর্নীতি, বঞ্চনা ও অপশাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ আইন হাতে তুলে না নিলেও এভাবেই তাদের ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। পাল্টা জবাবে মদন মিত্রের মতো নেতারা এর নেপথ্যে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুর্নীতির ভুরি ভুরি অভিযোগ এবং দলের অন্দরে তৈরি হওয়া টানাপোড়েনের আবহে এই ধরনের প্রকাশ্য আক্রমণ তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর প্রবল রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করছে। বিরোধীরা এই পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করে জনমানসে শাসকদলের বিরুদ্ধে আরও জোরালো ক্ষোভ তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে, যা আগামী দিনের রাজ্য রাজনীতিতে শাসকদলের ভাবমূর্তির ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *