চাকচিক্যের আড়ালে ‘হোয়াইট-কলার মাফিয়া’, টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির অন্ধকার দিক ফাঁস করলেন শিল্পা শিন্ডে!

বিনোদন জগতের ঝলমলে আলোর পেছনে লুকিয়ে থাকা অন্ধকার ও নোংরা বাস্তব নিয়ে ফের একবার তোলপাড় শুরু হয়েছে ছোটপর্দায়। এবার টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির একাংশের বিরুদ্ধে ‘হোয়াইট-কলার মাফিয়া’-র মতো কাজ করার বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী শিল্পা শিন্ডে। অভিনেতা শাহজাদা ধামির বকেয়া পারিশ্রমিক না পাওয়ার ক্ষোভকে সমর্থন জানিয়ে নিজের সামাজিক মাধ্যমে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি। এর ফলে বিনোদন দুনিয়ার ভেতরে চলতে থাকা ক্ষমতার অপব্যবহার এবং শিল্পীদের অধিকার হরণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।
ভীতি প্রদর্শন ও পারিশ্রমিক আটকে রাখার সংস্কৃতি
শিল্পা শিন্ডের দাবি অনুযায়ী, টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে শিল্পীদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। অনেক সময় মাসের পর মাস পারিশ্রমিক আটকে রাখা হয় এবং এর বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে ভবিষ্যতে কাজ না দেওয়ার বা ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। শুধু শিল্পীই নন, যেসব প্রযোজক বা কলাকুশলী ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়াতে চান, তাঁদেরও নানাভাবে হেনস্থা ও হুমকির মুখে পড়তে হয়। কাজ হারানোর চরম অনিশ্চয়তা ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের কথা চিন্তা করে অধিকাংশ শিল্পীই এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পান না, ফলে পুরো সিস্টেমে এক ধরনের নীরবতার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে।
এক দশকেও বদলায়নি পরিস্থিতি
নিজের অতীত অভিজ্ঞতা এবং ‘ভাবিজি ঘর পর হ্যায়’ ধারাবাহিকের সময়কার আইনি লড়াইয়ের প্রসঙ্গ টেনে অভিনেত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, প্রায় এক দশক কেটে গেলেও পরিস্থিতির কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন হয়নি। বরং যাঁদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল, তাঁরা বহাল তবিয়তে ইন্ডাস্ট্রিতে সফলভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে সহকর্মীদের কাছ থেকেও কোনো সমর্থন পাননি বলে জানান তিনি।
শিল্পীদের এই অসহায়ত্ব সামগ্রিকভাবে বিনোদন জগতের কর্মপরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে এই নোংরা পরিবেশে কাজ করার চেয়ে রাস্তায় সবজি বিক্রি করাও অনেক বেশি সম্মানের বলে মন্তব্য করেছেন এই অভিনেত্রী। শিল্পা শিন্ডের এই সাহসী অবস্থান ছোটপর্দার ভেতরের ক্ষমতার অপব্যবহার ও সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে এক বড়সড় ধাক্কা, যা আগামী দিনে শিল্পীদের অধিকার আদায়ে নতুন কোনো আন্দোলনের রূপ নিতে পারে।