লোকসভায় তৃণমূলের বড় পরীক্ষা, আজই স্পিকারের মুখোমুখি অভিষেক!

লোকসভায় তৃণমূলের বড় পরীক্ষা, আজই স্পিকারের মুখোমুখি অভিষেক!

ভারতের সংসদীয় রাজনীতিতে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় জল্পনা তৈরি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সমীকরণকে কেন্দ্র করে। দলে বড়সড় ভাঙন এবং বিক্ষুব্ধ সাংসদদের পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতির দাবি ঘিরে তৈরি হওয়া তীব্র আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝে আজ, শুক্রবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার মুখোমুখি হচ্ছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সংসদ ভবনে স্পিকারের চেম্বারে বিকেল ৫টায় নির্ধারিত এই বৈঠককে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে পারদ চড়ছে।

ভাঙনের নেপথ্য কারণ ও আইনি লড়াই

এই সংকটের সূত্রপাত মূলত তৃণমূলের ২০ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদকে কেন্দ্র করে। তাঁরা মূল দল থেকে বেরিয়ে এসে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই)-তে যোগ দিয়েছেন এবং লোকসভায় নিজেদের একটি পৃথক সংসদীয় গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য স্পিকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। এই পদক্ষেপের ফলেই লোকসভায় তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে। বিক্ষুব্ধদের এই আবেদনের প্রেক্ষিতেই এবার তৃণমূলের প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান ও যুক্তি জানার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেকে পাঠিয়েছেন স্পিকার ওম বিড়লা।

দলত্যাগ বিরোধী আইন ও অভিষেকের অবস্থান

তৃণমূল সূত্রের খবর, বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিতে চলেছেন। তিনি স্পিকারের কাছে যুক্তি দেবেন যে, অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের (এআইটিসি) মধ্যে থেকে এভাবে কোনো পৃথক গোষ্ঠী গঠনের কোনো সাংবিধানিক বা আইনি ভিত্তি নেই। সংবিধানের দশম তফসিল বা দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী এই ধরনের গোষ্ঠীকে কোনোভাবেই স্বীকৃতি দেওয়া যায় না।

এর আগে গত ১০ জুন স্পিকারকে চিঠি লিখে অভিষেক অনুরোধ জানিয়েছিলেন, তৃণমূলের ভাঙন ঘটিয়ে গঠিত কোনো গোষ্ঠীকে যেন কোনো রকম সংসদীয় সুবিধা বা মর্যাদা না দেওয়া হয়। পাশাপাশি, যেকোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যাতে মূল দলের বক্তব্য শোনা হয়, সেই দাবিও তিনি জানিয়েছিলেন।

সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

বিক্ষুব্ধ সাংসদরা ইতিমধ্যেই স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে নিজেদের দাবি পেশ করেছেন। তবে স্পিকার ওম বিড়লা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, প্রাকৃতিক ন্যায়ের নীতি মেনে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পরেই তিনি লোকসভার বিধি ও আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। এই সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে লোকসভায় তৃণমূলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান। যদি স্পিকার বিক্ষুব্ধদের স্বীকৃতি দেন, তবে লোকসভায় তৃণমূলের শক্তি ও প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। আর যদি দলত্যাগ বিরোধী আইনে তাঁদের আবেদন খারিজ হয়, তবে সংসদের অন্দরে তৃণমূলের কর্তৃত্ব বজায় থাকবে। ফলে, আজকের এই বৈঠকটির ওপর জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *