তৃণমূলে নজিরবিহীন ভাঙন, ২০ সাংসদ হারিয়ে অস্তিত্ব রক্ষায় স্পিকারের দ্বারস্থ অভিষেক!

তৃণমূলে নজিরবিহীন ভাঙন, ২০ সাংসদ হারিয়ে অস্তিত্ব রক্ষায় স্পিকারের দ্বারস্থ অভিষেক!

বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর এবার লোকসভাতেও চরম বিপর্যয়ের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে দলের ২০ জন সাংসদ ঘাসফুল শিবির ত্যাগ করে এনসিপিআই (NCPI)-তে যোগ দিয়েছেন। এই নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে দলের অস্তিত্ব ও ‘আসল তৃণমূল’ তকমা টিকিয়ে রাখতে জরুরি ভিত্তিতে দিল্লি উড়ে গিয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার বিকেলে লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার সঙ্গে তাঁর এই সংকটমোচন বৈঠকটি হওয়ার কথা রয়েছে।

দলের অন্দরে বিদ্রোহের কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি

রাজ্য বিধানসভা ভোটে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ‘নয়া তৃণমূল’ গঠিত হয়ে বিধায়ক শিবিরে ধস নামানোর পর, সেই প্রভাব সরাসরি লোকসভাতেও এসে পড়ে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা ও অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরেই শতাব্দী রায়, দেব এবং সায়নী ঘোষের মতো সাংসদ-সহ মোট ২০ জন জনপ্রতিনিধি একযোগে দলত্যাগ করেছেন। ইতিমধ্যেই এই বিদ্রোহী সাংসদেরা স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার চিঠি জমা দিয়েছেন এবং লোকসভায় আলাদা আসনের দাবি জানিয়েছেন।

আইনি লড়াই ও সম্ভাব্য প্রভাব

একসঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক সাংসদের দলবদল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর চরম রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং দলত্যাগ বিরোধী আইনের জটিলতা এড়াতে আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটছে কালীঘাট। স্পিকারের কাছে আগেই চিঠি দিয়ে তৃণমূলের দাবি, বিদ্রোহী গোষ্ঠী দল ছাড়লেও মূল সাংগঠনিক রাশ তাঁদের হাতেই রয়েছে এবং তাঁরাই আসল তৃণমূল। এই গণ-ভাঙনের ফলে জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের প্রভাব যেমন তাৎপর্যপূর্ণভাবে হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তেমনই দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর হবে কি না এবং লোকসভায় আলাদা ব্লকের মান্যতা জুটবে কি না—তার সম্পূর্ণটাই নির্ভর করছে স্পিকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *