রেলের মহাবিপ্লব! এবার আসছে আরও ৯টি বন্দে ভারত স্লিপার, তালিকায় রয়েছে বাংলাও

ভারতীয় রেলের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে দেশজুড়ে আরও নয়টি রুটে প্রিমিয়াম ‘বন্দে ভারত স্লিপার’ ট্রেন চালু হতে চলেছে। দূরপাল্লার যাত্রীদের বিশ্বমানের স্বাচ্ছন্দ্য ও দ্রুতগতির পরিষেবা দিতে ভারতীয় রেল এই মেগা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে ২০২৫ সালে দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটি হাওড়া-কামাখ্যা রুটে সফলভাবে চলাচল শুরু করেছে, যার ফলে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের সময় যেমন কমেছে, তেমনই বৃদ্ধি পেয়েছে যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য। এবার সেই সাফল্যের ওপর ভিত্তি করেই দেশের আরও বেশ কয়েকটি ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ রুটে এই ট্রেন নামানোর প্রস্তুতি চলছে।
দ্বিতীয় ট্রেনের সম্ভাব্য রুট মুম্বাই-ব্যাঙ্গালোর
রেল মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব মুম্বাই-ব্যাঙ্গালোর রুটে বন্দে ভারত স্লিপার চালুর অনুমোদন দিয়েছেন। ফলে এটিই হতে চলেছে দেশের দ্বিতীয় বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন। বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দুই শহরের মধ্যে যাতায়াতকারী নিত্যযাত্রী ও পেশাজীবীদের জন্য এটি অত্যন্ত বড় একটি সুখবর।
তালিকায় নয়া দিল্লি-হাওড়াসহ একাধিক ব্যস্ত রুট
নতুন যে ৯টি রুটের তালিকা সামনে এসেছে, তাতে দেশের রাজধানী নয়া দিল্লির সঙ্গে একাধিক প্রধান শহরের সংযোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে নয়া দিল্লি-হাওড়া, নয়া দিল্লি-মুম্বাই, নয়া দিল্লি-আহমেদাবাদ, নয়া দিল্লি-চেন্নাই, নয়া দিল্লি-সেকেন্দ্রাবাদ, নয়া দিল্লি-পুনে, মুম্বাই-আহমেদাবাদ এবং নয়া দিল্লি-শ্রীনগর। এই তালিকায় নয়া দিল্লি-হাওড়া রুটটি যুক্ত থাকায় পশ্চিমবঙ্গ আরও একটি অত্যাধুনিক বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন পেতে চলেছে, যা রাজ্যের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করবে।
গতির সাথে স্বাচ্ছন্দ্যের মেলবন্ধন এবং সম্ভাব্য প্রভাব
রাতের ভ্রমণের জন্য বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনগুলো বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। এই পরিষেবা চালুর মূল কারণ হলো ট্রেনের গতি বাড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর সময় কমিয়ে আনা এবং একই সাথে রাজধানী বা শতাব্দীর মতো প্রিমিয়াম ট্রেনের চেয়েও উন্নত ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা। এর ফলে একদিকে যেমন পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান ও যাতায়াত ব্যবস্থার সামগ্রিক আধুনিকীকরণ সম্ভব হবে। যদিও এই নতুন রুটগুলোর আনুষ্ঠানিক সূচি বা ভাড়ার তালিকা এখনো রেলের পক্ষ থেকে চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হয়নি, তবে খুব শীঘ্রই এই পরিষেবা চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।