কামদুনি ফাইল খুললে ফেঁসে যাওয়ার আতঙ্কে জ্যোতিপ্রিয়, বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

কামদুনি ফাইল খুললে ফেঁসে যাওয়ার আতঙ্কে জ্যোতিপ্রিয়, বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

দীর্ঘদিন পর আবারও রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এলো কামদুনি গণধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড। তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত পদ থেকে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের পদত্যাগের পর, তাঁর বিরুদ্ধে এক চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক দাবি তুলেছেন কামদুনি কাণ্ডের নির্যাতিতা তরুণীর ভাই। তাঁর দাবি, কামদুনি মামলার ফাইল পুনরায় খোলা হলে ফেঁসে যাওয়ার চরম আশঙ্কায় ভুগছেন প্রাক্তন এই মন্ত্রী। একইসঙ্গে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি।

তৃণমূল প্রধানের ভাইপো যুক্ত থাকার অভিযোগ

একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নির্যাতিতার ভাই দাবি করেন, ২০১৩ সালের সেই নৃশংস ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের পেছনে যুক্ত ছিলেন স্থানীয় এক তৃণমূল প্রধানের ভাইপো, যিনি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বৃত্তের লোক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর আরও অভিযোগ, অপরাধীদের আড়াল করতে এবং মামলার তথ্য-প্রমাণ লোপাটের প্রক্রিয়ার সঙ্গে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী উভয়েই যুক্ত ছিলেন। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর এই নতুন দাবি রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। যদিও এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দলীয় পদ ত্যাগ

অবশ্য দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার পেছনে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণ দেখিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লেখা এক চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে তীব্র শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। তাঁর রক্তের শর্করার মাত্রা (সুগার) ৩৫০-এর উপরে এবং সেইসঙ্গে কিডনির সমস্যাও গুরুতর। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী মানসিক ও শারীরিক চাপমুক্ত থেকে সম্পূর্ণ বিশ্রামের প্রয়োজনে তিনি দলের জাতীয় কর্মসমিতির সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রভাব

২০১৩ সালের জুন মাসে উত্তর ২৪ পরগনার কামদুনিতে ২১ বছরের এক কলেজ ছাত্রীকে নৃশংসভাবে গণধর্ষণ ও খুন করা হয়েছিল। এই ঘটনার পর দোষীদের শাস্তির দাবিতে মৌসুমী কয়াল ও টুম্পা কয়ালের নেতৃত্বে যে স্বতঃস্ফূর্ত গণ-আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তা ভাঙার পেছনেও জ্যোতিপ্রিয়ের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। নিম্ন আদালতে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনের যাবজ্জীবন হলেও পরবর্তী সময়ে কলকাতা হাইকোর্ট ফাঁসির সাজা রদ করে। এই আবহে নির্যাতিতার পরিবারের নতুন এই বিস্ফোরক দাবি কামদুনি মামলার আইনি ও রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতিতে নতুন মোড় এনে দিতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে যদি নতুন করে তদন্তের দাবি ওঠে, তবে তা বর্তমান শাসক দল তথা সংশ্লিষ্ট নেতাদের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *