পাহাড়ের রাজনীতিতে নজিরবিহীন নাটকীয় মোড়! সরকার বদলাতেই জিটিএ ছাড়লেন অনীত থাপাসহ ১২ জন নেতা

পাহাড়ের রাজনীতিতে নজিরবিহীন নাটকীয় মোড়! সরকার বদলাতেই জিটিএ ছাড়লেন অনীত থাপাসহ ১২ জন নেতা

দার্জিলিং: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার পাহাড়ের রাজনীতিতেও নজিরবিহীন নাটকীয় মোড়। গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ) থেকে আকস্মিক ইস্তফা দিলেন চিফ এগজিকিউটিভ অনীত থাপা। আর তাঁর এই ঘোষণার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ইস্তফা দিলেন আরও ১২ জন জিটিএ সভাসদ। সব মিলিয়ে পাহাড়ের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিসরে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত স্পষ্ট।

কী কারণে এই গণ-ইস্তফা?

গত বুধবার জিটিএ-র প্রধান এবং সভাসদ পদ থেকে পদত্যাগের পর দলের অন্যান্য সদস্যদেরও একই পথে হাঁটার আহ্বান জানিয়েছিলেন অনীত। তাঁর দাবি, চেয়ারের প্রতি তাঁর কোনও মোহ নেই। পাহাড়ের মানুষ সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বিজেপিকে বিপুল জনাদেশ দিয়েছে। অর্থাৎ তাঁরা পাহাড় সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী ও রাজনৈতিক সমাধান চাইছেন। তিনি মনে করেন, জিটিএ-র মাধ্যমে সেই স্থায়ী সমাধান সম্ভব হচ্ছিল না বলেই এই চরম সিদ্ধান্ত।

পাহাড় জুড়ে পদত্যাগের হিড়িক:

শুক্রবার কার্শিয়াঙে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে ড্যামেজ কন্ট্রোলের বৈঠকে বসেছিলেন অনীত। আর ঠিক সেই সময়েই ১২ জন সদস্যের একযোগে দলত্যাগের খবর সামনে আসে। অনীত থাপার দেখানো পথেই জিটিএ-র ডেপুটি চিফ এগজিকিউটিভ সঞ্চবির সুব্বা এবং কার্সিয়াং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অনু ছেত্রীও ইস্তফা দিয়েছেন। অনু ছেত্রীর স্পষ্ট বার্তা, “রাজ্যের নতুন ডাবল ইঞ্জিন সরকারের ওপর পাহাড়ের মানুষের আস্থা রয়েছে। এবার পাহাড় সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলেই আমরা মনে করছি।”

পুরো বল এখন বিজেপির কোর্টে!

২০২২ সালে জিটিএ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছিল অনীত থাপার দল ‘ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা’। কিন্তু অভিযোগ, পূর্বতন রাজ্য সরকারের থেকে পাহাড়ের উন্নয়নে সেভাবে কোনও আর্থিক সাহায্য পায়নি জিটিএ। পরিস্থিতি আরও বদলায় রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাহাড় সফরে সরকারি কর্মসূচিতে জিটিএ চিফ অনীত থাপা বা জিটিএ-র অন্য কোনও আধিকারিক ডাক পাননি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরিবর্তিত রাজনৈতিক সমীকরণে সুকৌশলে পাহাড়ের স্থায়ী সমাধানের পুরো বলটি রাজ্যের নয়া বিজেপির সরকারের কোর্টে ঠেলে দিয়ে সরে দাঁড়ালেন অনীত। এখন ডাবল ইঞ্জিন সরকার পাহাড়ের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর গোটা রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *