শ্বশুরবাড়ি যেতেও লাগছে ভোটার-আধার কার্ড! চর মেঘনায় আজব জামাইষষ্ঠী

শ্বশুরবাড়ি যেতেও লাগছে ভোটার-আধার কার্ড! চর মেঘনায় আজব জামাইষষ্ঠী

নদিয়া: ভোট দেওয়া বা বাসে-ট্রেনে টিকিট কাটার জন্য ভোটার কিংবা আধার কার্ডের প্রয়োজন হয়, তা সবারই জানা। কিন্তু জামাইষষ্ঠীতে শ্বশুরবাড়ি যেতে হলেও যে সচিত্র পরিচয়পত্র দেখাতে হবে, তা কি কেউ কখনও শুনেছেন? নদিয়ার করিমপুর-১ ব্লকের হোগলবেড়িয়া থানার চর মেঘনা গ্রামে গেলে এমনই এক অদ্ভুত বাস্তবতার সাক্ষী হতে হবে আপনাকে।

কেন এই নিয়ম?

চর মেঘনা গ্রামটি সরকারি খাতায় ‘অ্যাডভার্স পজেশন ল্যান্ড’ (APL)। গ্রামটি ভারতের হলেও এর অবস্থান বিএসএফ-এর কাঁটাতারের ওপারে। গ্রামের শেষ প্রান্ত দিয়েই বয়ে গিয়েছে মাথাভাঙা নদী, যার ঠিক ওপারেই বাংলাদেশের কুষ্টিয়া। তাই অনুপ্রবেশ ও নিরাপত্তার খাতিরে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (BSF) কড়া নজরদারি থাকে এই এলাকায়।

জামাইদের যে নিয়মগুলো মানতে হয়:

  • পরিচয়পত্র প্রদর্শন: কাঁটাতার পেরিয়ে গ্রামে ঢুকতে হলে বিএসএফ আউটপোস্টে জওয়ানদের সচিত্র পরিচয়পত্র (ভোটার ও আধার কার্ড) দেখানো বাধ্যতামূলক।
  • সময়সীমা নির্ধারণ: আউটপোস্টের খাতায় লিখে জানাতে হয়, বাবাজীবন ঠিক কতদিনের জন্য শ্বশুরবাড়িতে থাকতে এসেছেন।
  • জিজ্ঞাসাবাদ: বিএসএফ-এর বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। পরিচয়পত্রের সাথে উত্তরের মিল পেলে তবেই খোলে কাঁটাতারের বিশাল লোহার গেট।

নিজভূমেই পরবাসী গ্রামবাসীরা

গ্রামবাসীদের আক্ষেপ, “সীমান্তে বাস মানেই বারো মাস সমস্যা।” এই বন্দি দশার কারণে এ গ্রামের ছেলেদের বিয়েতেও চরম বাধা আসে। উৎসবের দিনেও পদে পদে প্রমাণ করতে হয় নিজের ভারতীয় পরিচয়। অভাবের সংসারে জামাই আদরে বা আন্তরিকতায় কোনও খামতি না থাকলেও, কাঁটাতারের কড়াকড়ি উৎসবের আনন্দে কিছুটা হলেও ভাটা ফেলে।

সমাধানের আশায় চর মেঘনা

গ্রামের প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ উত্তম সর্দার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের একটাই দাবি— নো ম্যানস ল্যান্ডের নিয়ম মেনে কাঁটাতারের বেড়াটি গ্রামের শেষ প্রান্তে সরিয়ে দেওয়া হোক। করিমপুরের বিধায়ক সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ এই সমস্যার কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব ও প্রশাসনের কাছে বেড়া সরানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে।

যাবতীয় প্রশাসনিক জটিলতা মিটে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে, এমনটাই আশা করছেন সকলে। তবে আপাতত, বিএসএফ-এর নিয়ম মেনেই ভোটার আর আধার কার্ড পকেটে নিয়ে হাসিমুখে শ্বশুরবাড়ির পথ ধরছেন এপার বাংলার জামাইরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *