অষ্টম বেতন কমিশনে মহার্ঘ ভাতা ও বকেয়ার জোড়া চমক! পকেটে আসবে মোটা টাকা

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের জন্য আসতে চলেছে বড় আর্থিক সুবিধা। বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত অষ্টম বেতন কমিশন ১ জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ৩ নভেম্বর, ২০২৫-এ এই কমিশন গঠিত হয় এবং সম্প্রতি ১৫ জুন, ২০২৬ তারিখে প্রস্তাব জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে ক্যাবিনেটের অনুমোদন সাপেক্ষে এই কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ বাস্তবায়িত হবে, যার পূর্ববর্তী প্রভাব শুরু হবে ২০২৬ সালের প্রথম দিন থেকেই।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ও মহার্ঘ ভাতার অঙ্ক
নতুন বেতন কাঠামোতে বেতন বৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি হলো ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর। বর্তমানে এটি ২.৫৭ গুণ হলেও, কর্মী সংগঠনগুলির ৩.৮৩ গুণের দাবির বিপরীতে সরকার এটি ৩.০-এ স্থির করতে পারে। এর ফলে বর্তমানের সর্বনিম্ন মূল বেতন ১৮,০০০ টাকা থেকে একলাফে বেড়ে ৩০,০০০ থেকে ৫৪,০০০ টাকার মধ্যে হতে পারে। অন্যদিকে, সপ্তম বেতন কমিশনের নিয়মে মহার্ঘ ভাতা (DA) সম্প্রতি বেড়ে ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে অষ্টম বেতন কমিশনের নতুন কাঠামো চালু হলে বর্ধিত মূল বেতনের ওপর ভিত্তি করে এই মহার্ঘ ভাতা ফের শূন্য (০%) থেকে গণনা শুরু হবে।
মোটা অঙ্কের বকেয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব
যেহেতু নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর ধরা হবে এবং চূড়ান্ত বাস্তবায়ন হতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে, তাই এই বিলম্বের কারণে কর্মীরা ১৮ থেকে ২৪ মাসের বকেয়া বা এরিয়ার একসঙ্গে পাবেন। সাধারণ কর্মীদের ক্ষেত্রে এই বকেয়ার পরিমাণ এক লাখ টাকার বেশি হতে পারে। ৬৫ লক্ষেরও বেশি পেনশনভোগী একইভাবে সংশোধিত বকেয়ার সুবিধা পাবেন। মূল বেতন বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়বে কর্মীদের ভবিষ্যৎ তহবিলে। বেসিক পে বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম (NPS) বা ইউনিফাইড পেনশন স্কিম (UPS)-এ কর্মী ও সরকারের অবদানের পরিমাণ আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পাবে। তবে, সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ঘোষণা না করা পর্যন্ত এই অঙ্কগুলি বিশেষজ্ঞ ও কর্মী সংগঠনগুলোর অনুমানের ওপর নির্ভরশীল।