হিজাবে ছাড়, হিন্দু হলে ‘কণ্ঠী’তে বাধা! Re-NEET পরীক্ষাকেন্দ্রে চরম বিক্ষোভ, আটক ২

আহমেদাবাদ: প্রশ্নফাঁস বিতর্কের পর কড়া নিরাপত্তায় দেশজুড়ে ফের অনুষ্ঠিত হলো নিট (Re-NEET UG) পরীক্ষা। এবার প্রশ্নফাঁসের কোনও অভিযোগ না উঠলেও, গুজরাটের আহমেদাবাদে ‘কণ্ঠী-হিজাব’ বিতর্ককে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল।
ঠিক কী অভিযোগ উঠেছে?
আহমেদাবাদের আর জে তিব্রেওয়াল পরীক্ষাকেন্দ্রে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে একাধিক হিন্দু পরীক্ষার্থীর হাতের ‘পবিত্র সুতো’ এবং গলার ‘কণ্ঠী’ খুলতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবকরা। তাঁদের দাবি, পরীক্ষাকেন্দ্রে মুসলিম ছাত্রীদের তল্লাশির পর হিজাব পরেই ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়েছে। তাহলে হিন্দু পরীক্ষার্থীদের কেন তাঁদের ধর্মীয় প্রতীক ‘কণ্ঠী’ বা ‘সুতো’ খুলতে বাধ্য করা হবে?
হিন্দুত্ববাদীদের বিক্ষোভ ও পুলিশের পদক্ষেপ:
এই ‘বৈষম্যমূলক আচরণ’-এর প্রতিবাদে পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরেই প্রবল বিক্ষোভ শুরু করেন অভিভাবকরা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান স্থানীয় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্যরা। বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করলে পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দু’জন হিন্দুত্ববাদী বিক্ষোভকারীকে আটকও করেছে।
কী বলছে NTA-র নির্দেশিকা?
ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA) গত ১৯ জুন একটি স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করেছিল, যেখানে বলা হয়েছিল:
- হিজাব, পাগড়ি, হাতে বাঁধা পবিত্র সুতো বা কণ্ঠীর মতো ধর্মীয় পোশাক বা প্রতীক পরে পরীক্ষায় বসা যাবে।
- তবে এই ধরনের পোশাক বা প্রতীক পরিহিত পরীক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট সময়ের বেশ কিছুটা আগেই পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে হবে, যাতে তাঁদের বিস্তারিতভাবে তল্লাশি করা যায়।
NTA-এর এমন সুস্পষ্ট নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষার্থীদের কেন এমন চরম হয়রানির শিকার হতে হলো, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে জাতীয় স্তরে।