চাকরির নামে ৮ লক্ষ লোপাট ও বাড়ি ভাঙচুর! জোড়া অভিযোগে ফাঁসলেন তৃণমূল বিধায়কের ভাই ও কাউন্সিলার
বালুরঘাট: রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। এবার বন দপ্তরে চাকরির নামে বিপুল টাকা আত্মসাৎ এবং বেআইনিভাবে বাড়ি ভাঙচুরের মারাত্মক অভিযোগে নাম জড়াল দুই দাপুটে তৃণমূল নেতার। অভিযুক্তরা হলেন কুমারগঞ্জের তৃণমূল বিধায়কের ভাই মোসারফ হোসেন এবং বালুরঘাট পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলার বিপ্লব খাঁ। দুটি ঘটনাতেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
বিধায়কের ভাইয়ের বিরুদ্ধে ‘চাকরি-দুর্নীতি’: কুমারগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক তোরাফ হোসেন মণ্ডলের ভাই তথা এলাকার প্রভাবশালী নেতা মোসারফ হোসেনের বিরুদ্ধে ৮ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।
- কী ঘটেছিল? অভিযোগকারী সাইফুর মণ্ডলের দাবি, ২০২৩ সালে বন দপ্তরের গ্রুপ-ডি পদে চাকরির টোপ দিয়ে এই টাকা নেন মোসারফ। চাষের জমি বিক্রি করে টাকা দিলেও চাকরি জোটেনি। উল্টে টাকা ফেরত চাইতে গেলেই জুটত প্রাণনাশের হুমকি।
- রাজ্যে পালাবদল হতেই অবশেষে সাহস করে কুমারগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রতারিত যুবক। এরপর থেকেই পলাতক অভিযুক্ত মোসারফ। যদিও বিধায়ক তোরাফ হোসেন এই বিষয়ে বিন্দুবিসর্গ জানেন না বলে দাবি করেছেন।
তৃণমূল কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ: অন্যদিকে, বালুরঘাট পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার বিপ্লব খাঁ-র বিরুদ্ধে বাড়িঘর ভাঙচুর ও প্রাণনাশের অভিযোগ দায়ের হয়েছে তপন থানায়।
- কী ঘটেছিল? যোগেশ্বর বর্মন নামে এক ব্যক্তির অভিযোগ, তিনি ব্যাঙ্ক থেকে লিজ নেওয়া একটি জমিতে বসবাস করতেন। সেই জমির মামলায় আদালতের স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও, তৎকালীন সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান বিপ্লব খাঁ পুলিশ নিয়ে এসে জোরপূর্বক তাঁর বসতবাড়ি ও গুদাম ভেঙে দেন।
- এতদিন রাজনৈতিক প্রভাব ও চাপের কারণে অভিযোগ করতে পারেননি তিনি। যদিও বিপ্লব খাঁ-র দাবি, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কিছু করেননি, যা হয়েছে তা ব্যাঙ্কের আইনি নিয়ম মেনেই হয়েছে।
ক্ষমতা বদলের পর সাধারণ মানুষের এই একের পর এক অভিযোগ দায়েরের ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুরের রাজনৈতিক মহলে।