ভরাডুবির ধাক্কায় এবার রণকৌশল বদল, শুভেন্দু সরকারের প্রথম বাজেট নিয়ে সতর্ক মমতা!

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নয়া বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হতে চলেছে সোমবার। আর এই বাজেটকে কেন্দ্র করেই এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক কৌশল ও চরম সতর্কতার বার্তা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার কালীঘাটে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আগেভাগেই বা অন্ধভাবে এই বাজেটের বিরোধিতা করা যাবে না। বরং নতুন সরকারকে কিছুটা সময় দিয়ে, বাজেট পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ে দেখে তবেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
রণকৌশল বদলের নেপথ্যে ভরাডুবির শিক্ষা
রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনে দলের শোচনীয় পরাজয় বা ভরাডুবির পর তৃণমূলের এই অবস্থান পরিবর্তন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দলীয় বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই স্বীকার করেছেন যে, নতুন সরকারের সব পদক্ষেপেরই ঢালাও সমালোচনা করলে সাধারণ মানুষ তা ভালোভাবে নেবে না। জনগণের মনস্তত্ত্ব বুঝেই তৃণমূল নেত্রী এখন কারণে-অকারণে বিরোধিতার রাস্তায় না হেঁটে ‘ধীরে চলো’ নীতি আপন করতে চাইছেন। তিনি মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ মেপে না ফেললে তৃণমূলের পক্ষে পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানো কার্যত আসাম্ভব হয়ে পড়বে।
সুদূরপ্রসারী প্রভাব ও আগামী দিনের অপেক্ষা
নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, ক্ষমতায় আসার পর প্রথম বাজেটে বাংলার মানুষের জন্য বিশেষ চমক ও উপহার থাকবে। স্বাভাবিকভাবেই আমজনতার প্রত্যাশার পারদ এখন তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে রাজ্য সরকার কী কী সুবিধা বা অর্থনৈতিক তহবিল আদায় করতে পারছে, তা আগে পর্যবেক্ষণ করতে চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল সুপ্রিমোর এই সংযত অবস্থান শুধু যে তাঁর দলের নেতাদের জন্য বড় বার্তা তা নয়, বরং তা রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন বিরোধী সংস্কৃতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এই সাময়িক সংযম বাজেট পেশের পর কতটা স্থায়ী হয়, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।