ট্রাম্পের হুমকিতে বৈঠক ভাঙলেও ইরান ও আমেরিকার মধ্যে তৈরি হলো ৬০ দিনের রোডম্যাপ

পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ীভাবে শান্তি ফেরাতে সুইজারল্যান্ডের বারগেনস্টকে আয়োজিত ইরান-আমেরিকার মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক হুমকিতে মাঝপথেই বানচাল হয়ে গেছে। লেবানন প্রসঙ্গ তুলে তেহরানের ওপর পুনরায় বড় ধরনের হামলার মার্কিন হুমকির জেরে ক্ষুব্ধ ইরানি প্রতিনিধি দল বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যায়। তবে এই আকস্মিক উত্তেজনার পরও মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈঠকটি একেবারে ব্যর্থ হয়নি। চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে দুই দেশই ৬০ দিনের একটি কার্যকরী রোডম্যাপ অনুমোদন করতে সম্মত হয়েছে।
আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচির নেতৃত্বে সিঙ্গাপুরের প্রথমদফার পর এই শান্তি বৈঠকটি ইতিবাচক পরিবেশেই শুরু হয়েছিল। প্রথম ৮০ মিনিট অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে আলোচনা চলার পর একটি বিরতি নেওয়া হয়। কিন্তু বিরতির মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লেবাননে ইরান সমর্থিত হেজবুল্লা গোষ্ঠীর অশান্তি সৃষ্টির প্রসঙ্গ টেনে তেহরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি সাফ জানান, হেজবুল্লা অশান্তি না থামালে ইরানের ওপর আগের চেয়েও বড় ও জোরদার হামলা চালানো হবে। এই মন্তব্যের পরই মূলত বৈঠকটি ভেস্তে যায়। তবে সংকটের মধ্যেও সোমবার দু’পক্ষের আবারও আলোচনায় বসার সম্ভাবনা রয়েছে।
হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা ও যুদ্ধবিরতি সেল গঠন
বৈঠকটি মাঝপথে থমকে গেলেও কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ও তেহরানের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি হয়েছে। এই আলোচনার সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির গণ্ডি পেরিয়ে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর রোডম্যাপ তৈরি করা। কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। এছাড়া, বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষই একটি উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক কমিটি গঠনে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ এবং নতুন করে সংঘাত প্রতিরোধে ইরান, আমেরিকা ও লেবাননকে নিয়ে একটি বিশেষ ‘যুদ্ধবিরতি সেল’ গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও কূটনৈতিক গুরুত্ব
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই আগ্রাসী নীতি ও তেহরানকে সরাসরি সামরিক হুমকি সাময়িকভাবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরাতে পারে, যা পশ্চিম এশিয়ার সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকে নতুন করে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। তবে এতকিছুর পরও ৬০ দিনের রোডম্যাপ এবং হরমুজ প্রণালী ও লেবানন কেন্দ্রিক যৌথ নিরাপত্তা কাঠামো গঠনে দুই দেশের সম্মতি একটি বড় কূটনৈতিক জয়। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই রোডম্যাপ যদি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়, তবে তা বিশ্ব বাণিজ্যের প্রধান নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করবে।