বিজেপির বাজেটে ‘বাদ’ নির্দিষ্ট সম্প্রদায়! প্রশংসা করেও সরকারকে সতর্ক করলেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত

কলকাতা: অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তর পেশ করা বিজেপি সরকারের প্রথম রাজ্য বাজেট নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দিল বিরোধী শিবির। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বাজেটের বেশ কিছু দিকের প্রশংসা করলেও, পরিকাঠামো খাতে ব্যবসায়ীদের একচেটিয়া সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সরকারকে সতর্ক করেছেন। পাশাপাশি, বাজেটে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে বঞ্চনা করার গুরুতর অভিযোগও তুলেছে বিরোধী শিবির।
বাজেটে ব্রাত্য একটি সম্প্রদায়? রঘুনাথগঞ্জের বিরোধী বিধায়ক আখরুজ্জামান অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ স্লোগানের কোনও প্রতিফলন এই বাজেটে নেই। তাঁর দাবি, এই বাজেটে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে (মূলত সংখ্যালঘু) সুকৌশলে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। সবাইকে নিয়ে চলার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা এই বাজেটে রক্ষিত হয়নি।
পরিকাঠামোয় প্রশংসা, তবে থাকছে সতর্কতা বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বাজেটের গঠনমূলক সমালোচনা করে বলেন, রাজ্যে পরিকাঠামো উন্নয়নের ওপর যে জোর দেওয়া হয়েছে তা ইতিবাচক। এর ফলে কর্মসংস্থান ও ব্যবসা বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। তবে তিনি সরকারকে সতর্ক করে জানান, “সহজে ব্যবসা করার নামে সবটা যেন ব্যবসায়ীদের হাতে ছেড়ে দেওয়া না হয়। এতে শুধু ব্যবসায়ীদেরই লাভ বাড়বে, যা বিপদ ডেকে আনতে পারে। সরকারকে এদিকে নজর রাখতে হবে।”
বরাদ্দ নিয়ে অসন্তোষ ও বিধানসভায় লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ কমানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন ঋতব্রত। পাশাপাশি, নতুন এয়ারপোর্টের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ অত্যন্ত সামান্য বলেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সম্পূর্ণ বাজেট এখনও তাঁদের পড়া হয়নি। বিস্তারিত পড়ে বিধানসভার অন্দরেই তাঁরা নিজেদের পূর্ণাঙ্গ মতামত ও দাবিদাওয়া পেশ করবেন।
নজরে ‘বিদ্রোহী’ বিরোধীরা উল্লেখ্য, রাজ্যের প্রথম বিজেপি বাজেটে ডিএ বৃদ্ধি, সিভিক ভলান্টিয়ারদের বেতন বৃদ্ধি থেকে শুরু করে মেট্রো ও এয়ারপোর্ট তৈরির মতো একাধিক বড় ঘোষণা করেছে সরকার। এই আবহে তৃণমূল থেকে বেরিয়ে আসা এই ‘বিদ্রোহী’ বিধায়করা বিরোধী দল হিসেবে বিধানসভায় শুভেন্দু-সরকারের মোকাবিলা ঠিক কীভাবে করেন, তার ওপরই নির্ভর করছে বাংলার রাজনীতির আগামী সমীকরণ।