বাজেটে বড় চমক! তারাপীঠ থেকে মায়াপুর, বাংলায় তৈরি হচ্ছে ‘শক্তিপীঠ ও চৈতন্য সার্কিট’

কলকাতা: উত্তরপ্রদেশের মডেলে এবার বাংলাতেও ধর্মীয় পর্যটনে ব্যাপক জোর দিচ্ছে সরকার। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত তাঁর প্রথম বাজেটেই তীর্থযাত্রা ও আধ্যাত্মিক পর্যটনকে ঢেলে সাজানোর জন্য একগুচ্ছ মেগা প্রকল্পের ঘোষণা করলেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় চমক হলো ‘বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিট’ এবং ‘চৈতন্য মহাপ্রভু তীর্থযাত্রা সার্কিট’ নির্মাণ।

‘বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিট’ কী? বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, রাজ্যের প্রধান শক্তিপীঠগুলিকে একটি বিশেষ রুটের মাধ্যমে সংযুক্ত করে বিশিষ্ট আধ্যাত্মিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। একটি প্রধান জেলা শহরকে কেন্দ্র করে তৈরি হবে এই ক্লাস্টার। এর আওতায় থাকছে—

  • তারাপীঠ
  • বক্রেশ্বর
  • কঙ্কালীতলা
  • নন্দিকেশ্বরী
  • ফুল্লরা
  • ভ্রামরীদেবী

চৈতন্য মহাপ্রভু তীর্থযাত্রা সার্কিট ও মায়াপুরের উন্নয়ন: শ্রীচৈতন্যের আদর্শ ও সামাজিক চিন্তাধারাকে সম্মান জানাতে বাজেটে আলাদা করে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

  • মায়াপুরকে একটি অনন্য পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা করা হয়েছে।
  • এর রূপায়ণে আগামী তিন বছরে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করছে রাজ্য সরকার।
  • পাশাপাশি, পুরী এবং দেওঘরে বাংলার পুণ্যার্থীদের থাকার জন্য পিপিপি (PPP) মডেলে সুলভ আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

কী বলছেন মুখ্যমন্ত্রী? ধর্মীয় পর্যটনের পাশাপাশি শিল্প ও কর্মসংস্থানেও সমান জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “এই বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্য, গরিমা ও সংস্কৃতির পুনরুদ্ধারকে যেমন অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, তেমনই রাজ্যের সুরক্ষা, ভয়মুক্ত পরিবেশ, শিল্প, কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সিভিক ভলান্টিয়ার বা চুক্তিভিত্তিক কর্মী থেকে শুরু করে রাজ্যের সাধারণ নাগরিক— এই বাজেটে এমন কোনও অংশ নেই, যাঁদের কথা ভাবা হয়নি।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *