মেয়রের পর সভাধিপতির ইস্তফা! জোড়া পদত্যাগে কার্যত ‘অনাথ’ শিলিগুড়ি

শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর শিলিগুড়িতে এবার চরম রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অচলাবস্থা। শিলিগুড়ি পুরনিগমের মেয়র গৌতম দেবের ইস্তফার রেশ কাটতে না কাটতেই, এবার পদত্যাগ করলেন শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি অরুণ ঘোষ। একই সময়ে শহরের দুই শীর্ষ প্রশাসনিক পদ শূন্য হয়ে পড়ায় কার্যত ‘অনাথ’ দশায় পরিণত হয়েছে শিলিগুড়ি।
উন্নয়ন ও পরিষেবা নিয়ে চরম শঙ্কা
এই জোড়া পদত্যাগের ফলে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমনিতেই বর্তমান বোর্ডের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ছিল।
- থমকে কাজ: গ্রামীণ উন্নয়ন, রাস্তাঘাট, পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের ভবিষ্যৎ এখন বিশ বাঁও জলে।
- ঠিকাদারদের ক্ষোভ: বরাত পাওয়া ঠিকাদারদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের কাজের টাকা বকেয়া পড়ে আছে। প্রশাসনিক শীর্ষ পদগুলি শূন্য হওয়ায় সেই জট কবে খুলবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
‘কাঁটার মুকুট’ পরতে নারাজ নেতারা!
তৃণমূল কাউন্সিলরদের একাংশ সাধারণ মানুষকে পরিষেবা সচল রাখার আশ্বাস দিলেও, বাস্তব চিত্রটা ভিন্ন। মেয়াদ শেষের দিকে থাকা এই দুই বোর্ডে এখন নতুন করে দায়িত্ব নিতে অনেকেই নারাজ। রাজনৈতিক মহলের মতে, মেয়র ও সভাধিপতির এই পদগুলি এখন কার্যত ‘কাঁটার মুকুট’। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, ইচ্ছা থাকলেও এই গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়ার সাহস পাচ্ছেন না তৃণমূলের অনেক নেতাই।
রাজনৈতিক পালাবদলের এই ড্যামেজ কন্ট্রোলের মাঝে শিলিগুড়ির সাধারণ নাগরিকরা এখন প্রমাদ গুনছেন। তাঁদের একটাই দাবি— রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, অবিলম্বে স্বাভাবিক হোক নাগরিক পরিষেবা। গোটা শিলিগুড়ির নজর এখন রাজ্যের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।