‘শুভেন্দুর সঙ্গে ইমোশনাল সম্পর্ক!’ মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসায় মহুয়া, জল্পনা তুঙ্গে

কলকাতা ও দিল্লি: রাজ্য রাজনীতিতে দলবদলের ঝড়, তৃণমূলের অন্দরে কার্যত ভাঙনের সুনামি চলছে। ঠিক সেই সময়েই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। কালীঘাট শিবির যখন দল ভাঙানোর জন্য লাগাতার শুভেন্দুকে নিশানা করছে, তখন মমতা-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মহুয়ার মুখে মুখ্যমন্ত্রীর এই ভূয়সী প্রশংসা রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা উসকে দিয়েছে।

সম্প্রতি বিবিসি (BBC)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মহুয়া মৈত্র স্পষ্ট জানান, রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হলেও শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর একটি ‘ইমোশনাল’ বা আবেগপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।

শুভেন্দুকে নিয়ে কী বললেন মহুয়া?

মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মহুয়া বলেন, “আমার সঙ্গে শুভেন্দুর খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। আমরা একসঙ্গে দলের কাজ করেছি। উনি আমাকে অনেক সাহায্য করেছিলেন, যা আমি কোনোদিন ভুলতে পারব না। আমি যখন প্রথম করিমপুর থেকে লড়াই করি, তখন দলের কেউ আমার হয়ে প্রচার করতে আসেননি। কিন্তু শুভেন্দু এসেছিলেন। উনি আমাকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, ‘বোন, আমি আপনার পাশে আছি’।”

বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে মহুয়া যোগ করেন, “এটা ঠিক যে, এখন উনি অন্য দল করেন। আমাদের মতাদর্শ ভিন্ন। তাই আর যোগাযোগ নেই। কিন্তু ব্যক্তিগত বা ইমোশনাল সম্পর্ক তো আর মুছে ফেলা যায় না।”

সায়নীর দলবদলে অবাক, সুদীপে নয়:

কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ সম্প্রতি এনসিপি (NCP)-তে যোগ দিয়েছেন। সহকর্মীদের এই দলবদল নিয়ে মুখ খুলে মহুয়া জানান, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল পরিবর্তনে তিনি মোটেও অবাক হননি। তবে যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষের পদক্ষেপে তিনি হতবাক।

  • সায়নী প্রসঙ্গে মহুয়া: “সায়নীর পদক্ষেপে আমি সত্যিই অবাক হয়েছি। আমি ভাবতাম ও নতুন প্রজন্মের রাজনীতিবিদ, প্রকৃত বিরোধিতার রাজনীতিটা ও করতে পারবে। অত্যন্ত অল্প বয়সে দল ওকে সাংসদ করেছে, গুরুত্বপূর্ণ পদ দিয়েছে। অথচ ও এমনটা করল!”
  • সুদীপ প্রসঙ্গে: “সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় আগেও দলবদল করেছেন। দল ছেড়ে আবার ফিরেওছিলেন। ফলে ওঁকে নিয়ে আমি একেবারেই অবাক হইনি।”

কেন তাৎপর্যপূর্ণ মহুয়ার মন্তব্য?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে মহুয়ার এই মন্তব্য বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ। বর্তমানে তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ এনডিএ (NDA)-তে যোগ দেওয়ার জল্পনা চলছে এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে প্রায় ৬০-৬৫ জন তৃণমূল বিধায়ক ‘বিদ্রোহী’ হয়ে উঠেছেন। কালীঘাট শিবিরের অভিযোগ, এই পুরো দল ভাঙানোর নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছেন স্বয়ং শুভেন্দু অধিকারী। এহেন উত্তপ্ত আবহে মহুয়ার মতো প্রথম সারির নেত্রীর মুখে মুখ্যমন্ত্রীর প্রকাশ্য প্রশংসা বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন কোনও সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে কিনা, তা নিয়েই এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে দেশের রাজনৈতিক অলিন্দে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *