তারাতলা বিপর্যয়ে মৃতদের ১০ লাখ! আগের সরকারের ‘পাপের ফল’ বলে তোপ মুখ্যমন্ত্রীর

কলকাতা: তারাতলা গোডাউন বিপর্যয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। এই মর্মান্তিক ঘটনায় মৃতদের পরিবারের জন্য ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে বিধানসভায় এই বিপর্যয়ের দায় আগের সরকারের ওপর চাপিয়ে তাদের তীব্র ভর্ৎসনা করেন তিনি।
উদ্ধারকাজ ও হতাহতের খতিয়ান:
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও পর্যন্ত ২৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে:
- মৃত: ৯ জন।
- আহত: ২০ জন চিকিৎসাধীন (১৫ জন স্থিতিশীল, ৪ জন সঙ্কটজনক এবং ১ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক)।ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে এনডিআরএফ (NDRF) ও সেনাবাহিনী। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও কয়েকজন আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
ক্ষতিপূরণ ঘোষণা:
দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রের তরফ থেকে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করা হয়েছে:
- রাজ্য সরকার: মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ১ লক্ষ টাকা করে।
- কেন্দ্রীয় সরকার: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করে মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং জখমদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্যের কথা জানিয়েছেন।
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর তোপ:
বৃহস্পতিবার বিধানসভা অধিবেশনে এই বিপর্যয়ের জন্য সরাসরি আগের সরকারকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “এটা আপনাদের পাপের ফল। সব জায়গায় টাকা নিয়ে কলকাতাকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছেন।” গার্ডেনরিচ বিপর্যয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন যে, আগের সরকার ভারী বিম কাটার মেশিন পর্যন্ত রাখেনি এবং উদ্ধারকাজে সেনাকে ডাকেনি।
এই বিপর্যয়ের ঘটনায় গোডাউনের ডেভেলপার আসগর হুসেন এবং প্রাক্তন মেয়রের আপ্তসহায়ক বলে পরিচিত জনৈক ‘কালী’-র নাম উল্লেখ করেন শুভেন্দু। তিনি দাবি করেন, কালীর নির্দেশ ছাড়া কলকাতা কর্পোরেশনে কোনও প্ল্যান পাস হতো না। তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অন্যদিকে, সূত্র মারফত জানা গেছে, লোহার ছাদ ভেঙে পড়ে ডেভেলপার আসগরেরও মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।