ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তায় আদানির ‘মাস্টারপ্ল্যান’! ২ লক্ষ কোটি বিনিয়োগের মেগা রোডম্যাপ প্রকাশ

ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তায় আদানির ‘মাস্টারপ্ল্যান’! ২ লক্ষ কোটি বিনিয়োগের মেগা রোডম্যাপ প্রকাশ

নয়াদিল্লি: ভারতের জ্বালানি ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী ও সুদূরপ্রসারী রোডম্যাপ উন্মোচন করল আদানি গোষ্ঠী। সম্প্রতি আদানি এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেডের বার্ষিক সাধারণ সভায় (AGM) এই বহুমুখী মেগা পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন সংস্থার চেয়ারম্যান গৌতম আদানি। বিশ্বজুড়ে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে ভারতের নিজস্ব ‘জ্বালানি নিরাপত্তা’ সুনিশ্চিত করাই এই মাস্টারপ্ল্যানের মূল লক্ষ্য।

কী রয়েছে আদানির এই মেগা পরিকল্পনায়?

আদানি গোষ্ঠী নবীকরণযোগ্য শক্তি, কয়লা, গ্যাস, জলবিদ্যুৎ, হাইড্রোজেন এবং পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনকে একই কর্পোরেট কাঠামোর অধীনে নিয়ে আসার কৌশল গ্রহণ করেছে। এর ফলে দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সবুজ শক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যমাত্রাও ত্বরান্বিত হবে।

মেগা ব্লু-প্রিন্টের মূল আকর্ষণ:

  • বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ: আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ৪৫ গিগাবাইট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকার মূলধনী ব্যয় কর্মসূচি হাতে নিয়েছে আদানি পাওয়ার। ভারতের বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে এটি এ যাবৎকালের বৃহত্তম বিনিয়োগ।
  • ভুটানের সঙ্গে কৌশলগত চুক্তি: দূষণমুক্ত সবুজ জ্বালানি উৎপাদনে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভুটানের ড্রুক গ্রিন পাওয়ার কর্পোরেশনের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর অধীনে ৫,০০০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।
  • পরমাণু শক্তিতে বড় পদক্ষেপ: আদানি অ্যাটমিক এনার্জির মাধ্যমে ২০৩৫ সালের মধ্যে ১০ গিগাবাইট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে।
  • উন্নত ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক: উৎপাদিত বিদ্যুৎ দেশের প্রতি কোণে পৌঁছে দিতে কাজ শুরু করেছে আদানি এনার্জি সলিউশনস। তাদের প্রায় ৭২,০০০ কোটি টাকার ট্রান্সমিশন অর্ডার বুকের মধ্যে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো খাভড়া থেকে দক্ষিণ ওলপাদ পর্যন্ত অত্যাধুনিক এইচভিডিসি (HVDC) লাইন স্থাপন।
  • কয়লা ও গ্যাসে রেকর্ড সাফল্য: নতুন চারটি এমডিও (MDO) চুক্তির ফলে সংস্থার বার্ষিক কয়লা উত্তোলনের ক্ষমতা রেকর্ড ১৪৫ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, আদানি টোটাল গ্যাস-এর পিএনজি (PNG) সংযোগের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ১১ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে।

লক্ষ্য স্বনির্ভর ভারত:

এই সুসংহত পরিকল্পনার মাধ্যমে আদানি গোষ্ঠী মূলত জ্বালানি খাতের প্রথম ধাপ (কয়লা উত্তোলন) থেকে শুরু করে শেষ ধাপের বিপণন পর্যন্ত সম্পূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর কর্তৃত্ব স্থাপন করতে চাইছে। বৈশ্বিক মূল্যবৃদ্ধি ও অস্থিরতার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারকে রক্ষা করা এবং দীর্ঘমেয়াদে ভারতকে জ্বালানি ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করে তোলাই এই মেগা রোডম্যাপের প্রধান উদ্দেশ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *