‘রাস্তায় ডিম না ছুড়ে বাচ্চাদের খাওয়ান’, ইসকনকে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়ায় বিধানসভায় সরব শোভনদেব

কলকাতা: রাজ্যের সরকারি স্কুলে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ‘ইসকন’-এর হাতে তুলে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তে তুঙ্গে বিতর্ক। বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করলেন বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। পড়ুয়াদের পুষ্টির অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি শাসকদলকে বিঁধলেন কড়া ভাষায়।
কী বললেন শোভনদেব?
বিধানসভার ফ্লোরে দাঁড়িয়ে রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ করেন শোভনদেব। বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল নেতাদের লক্ষ্য করে সাধারণ মানুষের ‘ডিম ছোঁড়া’র ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাস্তায় আমাদের নেতাদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া বন্ধ করুন! ওই ডিমগুলি নষ্ট না করে বরং স্কুলের গরিব বাচ্চাদের মিড-ডে মিলে ডিম দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।”
নিরামিষ বনাম পুষ্টির বিতর্ক:
ইসকনকে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে শোভনদেব বলেন, “ইসকনের সমাজসেবা বা ভক্তি নিয়ে আমাদের কোনো প্রশ্ন নেই, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রয়েছে। কিন্তু ইসকন একটি কট্টর নিরামিষাশী প্রতিষ্ঠান। তারা পেঁয়াজ-রসুনও ব্যবহার করে না। স্বাভাবিকভাবেই তাদের রান্না করা খাবার সম্পূর্ণ নিরামিষ হবে। তাহলে বাংলার স্কুলপড়ুয়ারা প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাবে কোথা থেকে?”
দীর্ঘদিন ধরে সরকারি স্কুলগুলোতে প্রোটিনের ঘাটতি মেটাতে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে ডিম দেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু ইসকনের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক আদর্শ অনুযায়ী, তাদের রান্নাঘরে ডিম বা মাংস প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। ফলে, এই সিদ্ধান্তের পর স্কুলের মেনু থেকে ডিম চিরতরে বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অস্পষ্ট শিক্ষা দপ্তর:
ইসকনের সহযোগিতায় নতুন ‘সেন্ট্রালাইজড কিচেন’ বা কেন্দ্রীয় রান্নাঘর ব্যবস্থা চালু হলেও, পড়ুয়াদের পাতে প্রাণিজ প্রোটিনের বিকল্প কী থাকবে, তা নিয়ে নবান্ন বা শিক্ষা দপ্তরের তরফে এখনও কোনো স্পষ্ট রূপরেখা মেলেনি। এই ধোঁয়াশা থেকেই শিক্ষক, অভিভাবক ও পুষ্টিবিদদের একাংশের মধ্যে প্রবল ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।