ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে ব্যাপক বিপর্যয়, ১ লাখ প্রাণহানির আশঙ্কায় কাঁপছে বিশ্ব!
ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা। দেশটির ইতিহাসে শতাব্দীর সবচেয়ে শক্তিশালী এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ইতিমধ্যেই সরকারিভাবে ১৬৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আহত হয়েছেন প্রায় এক হাজার মানুষ। তবে মার্কিন বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, ক্ষয়ক্ষতির যে ভয়াবহ চিত্র উঠে আসছে, তাতে শেষ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে এখন শুধু হাহাকার আর ধ্বংসের চিহ্ন।
বিধ্বংসী কম্পন ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র
মার্কিন জিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার ক্যারিবীয় উপকূলবর্তী মোরন শহরের পশ্চিমে ভূপৃষ্ঠের অত্যন্ত কাছাকাছি পরপর দুটি শক্তিশালী কম্পন আঘাত হানে। প্রথমটির মাত্রা ছিল ৭.২ এবং মাত্র ৪০ সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানা দ্বিতীয়টির মাত্রা ছিল ৭.৫। উৎপত্তিস্থল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১৩ এবং ১০ কিলোমিটার গভীরে হওয়ায় এই জোড়া কম্পনের তীব্রতা ছিল মারাত্মক। রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১,৭০০ কিলোমিটার দূরে ব্রাজিলের আমাজনেও এই কম্পন অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের পর পরই দেশের বিদ্যুৎ ও মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে, বহু বহুতল ভবন ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে এবং রাস্তাঘাট অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় ব্যাহত হচ্ছে জরুরি উদ্ধারকাজ।
দুর্যোগের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
ভেনেজুয়েলা মূলত দক্ষিণ আমেরিকান ও ক্যারিবীয় টেকটনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এর আশপাশে একাধিক ফল্ট লাইন বা ভূ-চ্যুতি রয়েছে। সাধারণত এই অঞ্চলে এত তীব্র কম্পন সচরাচর দেখা না গেলেও, ভূ-অভ্যন্তরীণ প্লেটের আকস্মিক ও বড় ধরনের স্থানচ্যুতির কারণেই এই শতাব্দীর ভয়াবহতম বিপর্যয়টি ঘটেছে। এই দুর্যোগের ফলে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি এবং সামাজিক অবকাঠামো দীর্ঘমেয়াদী সংকটে পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এবং হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ায় দেশটিতে তীব্র মানবিক বিপর্যয় দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে গোটা ভেনেজুয়েলা জুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।