‘একটা ঘটনা নয় ৩০০টা প্লট’! হাইকোর্টেও স্বস্তি পেলেন না অভিষেকের আপ্তসহায়ক

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের আগাম জামিনের আর্জি আপাতত খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। জমি দুর্নীতি মামলায় নাম জড়ানোর পর থেকেই তিনি পলাতক। তাঁর শেষ টাওয়ার লোকেশনের সূত্র ধরে সম্প্রতি কাকভোরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের সিঙ্গল বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হলেও সুমিত রায়ের জন্য কোনও স্বস্তির নির্দেশ মেলেনি। আগামী সোমবার হলফনামা আকারে যাবতীয় তথ্য আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৩০০ প্লটের দুর্নীতি ও বিচারপতির পর্যবেক্ষণ
শালবনী থানায় দায়ের হওয়া একটি অভিযোগের ভিত্তিতেই সুমিত রায়ের খোঁজ শুরু করে পুলিশ। অভিযোগকারী দাবি করেন, জমি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা নেওয়া হলেও কোনও জমি তিনি পাননি। উলটে জাল দলিল তৈরি করে বহু মানুষের কাছ থেকে এভাবেই বিপুল অঙ্কের টাকা হাতানো হয়েছে। শুনানিতে বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ, ঘটনাটি কোনও বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। এর সঙ্গে অন্তত ৩০০টি প্লট এবং একাধিক ব্যক্তি জড়িয়ে রয়েছে। উল্লেখ্য, এই মামলায় এর আগেই মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই সুমিতের নাম উঠে আসে এবং দুজনের যোগসাজশেই এই দুর্নীতি চলত বলে তদন্তকারীদের দাবি।
রাজনৈতিক তরজা ও সম্ভাব্য প্রভাব
মামলাকারীর আইনজীবীর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই সুমিতকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে এবং এর জেরেই দলের সাধারণ সম্পাদকের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে। তিনি ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট খতিয়ে দেখারও আবেদন জানান। অন্যদিকে সরকারি আইনজীবী কল্লোল মণ্ডলের পালটা দাবি, মূল অভিযুক্তের কাছে টাকা যাওয়ার বিষয়ে খোদ গাড়িচালক বয়ান দিয়েছেন এবং অভিযুক্তের বাড়ি থেকে জাল দলিলও উদ্ধার হয়েছে। সাধারণ মানুষের জমি নিয়ে এই বিপুল পরিমাণ দুর্নীতির অভিযোগ ও হাইকোর্টের কড়া অবস্থান শাসকদলের ওপর নতুন করে আইনি ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করল। আগামী দিনে তদন্তের জাল আরও বিস্তৃত হলে রাজ্য রাজনীতিতে এর ব্যাপক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।