‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’-এর মঞ্চে মমতার বিগত জমানাকে তীব্র আক্রমণ শুভেন্দুর

সময় বদলায়, শাসক বদলায়, কিন্তু ক্ষমতার দম্ভের শেষ পরিণতি যে একই থাকে, সেই চিরন্তন রাজনৈতিক সত্যটি আরও একবার স্মরণ করিয়ে দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’-এর মঞ্চ থেকে আজ থেকে ঠিক ৫১ বছর আগের দিল্লির এক অন্ধকার ইতিহাসকে টেনে এনে নাম না করে পূর্বতন শাসকদল ও তার নেত্রীর বিগত ১৫ বছরের জমানাকে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। জনমতকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যাঁরা স্বৈরাচারের পথে হাঁটেন, ইতিহাস তাঁদের কোনও দিন ক্ষমা করে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী।
জনগণের শাসনের বদলে দলীয়তন্ত্রের প্রতিষ্ঠা
১৯৭৫ সালের ২৫ জুন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর পরামর্শে দেশজুড়ে জারি হওয়া ২১ মাসের জাতীয় জরুরি অবস্থাকে স্বাধীন ভারতের ইতিহাসের ‘কালো অধ্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করেন শুভেন্দু অধিকারী। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে হাতিয়ার করে তিনি অভিযোগ করেন, বিগত জমানায় গণতন্ত্রের মূল আদর্শ ‘জনগণের শাসন’-কে বিকৃত করে ‘দলের শাসন’ কায়েম করা হয়েছিল। নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে সাধারণ মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়ে স্রেফ দলীয়তন্ত্রের আধিপত্য তৈরি করাই ছিল পূর্বতন সরকারের লক্ষ্য, যা জরুরি অবস্থার স্বৈরাচারী মানসিকতারই প্রতিফলন।
অহংকারের পতন ও রাজনৈতিক প্রভাব
বক্তব্যের ঝাঁজ বাড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন যে, প্রবল পরাক্রমী শাসকের সিংহাসনও একসময় উল্টে যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম সরাসরি উচ্চারণ না করে তাঁর বিগত শাসনকাল ও অহংবোধকে নিশানা করে তিনি বলেন, ইন্দিরা গান্ধীর মতো মহাশক্তিশালী প্রধানমন্ত্রীকেও একসময় ক্ষমতা হারিয়ে প্রাক্তন হতে হয়েছিল। বাংলায় যিনি নিজেকে ‘সর্বজ্ঞানী’ মনে করতেন এবং যাঁর অহংবোধ আকাশ ছুঁয়েছিল, সাধারণ মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে তাঁর সেই অহংকার চূর্ণ করে যোগ্য জবাব দিয়েছে। এই ঘটনার জেরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা এবং জনমতের শক্তির গুরুত্ব বজায় রাখার বার্তা আরও জোরালো হলো বলে মনে করা হচ্ছে।