ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে মৃত্যু হাজার ছুঁই ছুঁই, উদ্ধারকাজে ধীরগতি নিয়ে ক্ষোভ!

জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ভেনেজুয়েলা। রাজধানী কারাকাস-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ধসে পড়া বহুতলের নিচে চাপা পড়ে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৯২০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৩০০-র বেশি মানুষ। উদ্ধারকাজের চরম ধীরগতি নিয়ে খোদ সরকারের বিরুদ্ধেই ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ নাগরিকরা। চারিদিকে হাহাকার ও শোকের আবহে ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রিয়জনদের খুঁজতে খালি হাতেই নেমে পড়েছেন স্থানীয়রা।
প্রকৃতির জোড়া আঘাত ও ধ্বংসলীলা
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ভোরে এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি প্রলয়ংকরী ভূমিকম্প আঘাত হানে ভেনেজুয়েলার ক্যারিবীয় উপকূলবর্তী মোরন শহরের পশ্চিমে। ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১৩ ও ১০ কিলোমিটার গভীরে উৎপত্তি হওয়া এই জোড়া কম্পনের জেরে পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকে কারাকাসের বড় বড় ইমারত। মুহূর্তের মধ্যে ধূলিসাৎ হয়ে যায় বহু ঘরবাড়ি, ভেঙে পড়ে বিদ্যুতের খুঁটি এবং রাস্তাঘাট অবরুদ্ধ হয়ে যায়।
সরকারি ব্যর্থতার অভিযোগ ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব
চারিদিকে স্বজন হারানোর কান্না এবং নিখোঁজদের খোঁজে হাহাকারের মাঝেই সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসনের তরফে উদ্ধারকাজে কাঙ্ক্ষিত তৎপরতা না থাকায় বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষ নিজেরাই ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছেন। বিশ্বকাপের মতো বিশ্বজনীন উৎসব ভুলে মানুষ এখন কেবলই স্বজনদের মৃতদেহ বা বেঁচে থাকা প্রাণের খোঁজ করছেন। নিখোঁজদের সংখ্যা এতটাই বেশি যে, নিহতের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান লক্ষে পৌঁছতে পারে বলে প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই বিপুল প্রাণহানি ও পরিকাঠামোগত ধ্বংসলীলা ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি এবং বিপর্যস্ত সমাজজীবনে এক ভয়াবহ ও সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে চলেছে।