মেয়ের জেদেই নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা! তারাতলায় যমদুয়ার থেকে ফিরলেন শ্রমিক বাবা

কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামঘর ভেঙে পড়ার ভয়ংকর ঘটনার মাঝেও উঠে এল এক অবিশ্বাস্য বেঁচে ফেরার গল্প। ধ্বংসস্তূপের নিচে যখন একের পর এক শ্রমিকের জীবন চাপা পড়েছে, তখন শুধুমাত্র ছোট্ট মেয়ের আবদারে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে এলেন জগদ্দলের মোমিনপুরের বাসিন্দা ধর্মেন্দ্র চৌধুরী।
সামান্য আবদারে অলৌকিক রক্ষা
বুধবার কাকভোরে রোজকার মতোই তারাতলার গুদামে কাজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ধর্মেন্দ্র। ওই দিন কাজে গেলে দৈনিক ৭০০ টাকার বদলে ১০০০ টাকা পাওয়ার কথা ছিল তাঁর। দরিদ্র সংসারে বাড়তি উপার্জনের আশায় তিনি বেরনোর তোড়জোড় করলেও বাদ সাধে তাঁর ছোট্ট মেয়ে। ঘুম জড়ানো চোখে বাবার কোমর জড়িয়ে ধরে কাজে যেতে বারণ করে সে। মেয়ের নাছোড়বান্দা জেদের কাছে হার মেনে শেষ পর্যন্ত ঘরেই থেকে যান তিনি। আর এই একটি সিদ্ধান্তই অলৌকিকভাবে বাঁচিয়ে দেয় তাঁর প্রাণ।
বিপর্যয়ের কারণ ও প্রশাসনের পদক্ষেপ
বেলা ১২টা ৭ মিনিট নাগাদ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে ওই নির্মীয়মাণ ভবনটি। এই মর্মান্তিক ঘটনায় একাধিক শ্রমিকের মৃত্যু এবং বেশ কয়েকজনের আহত হওয়ার ঘটনা সামনে আসে, যা নির্মাণকাজে সুরক্ষা বিধির চরম গাফিলতি ও অবহেলাকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। ঘটনার ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে উদ্ধারকাজে নামাতে হয় সেনাকে। ধর্মেন্দ্রর বদলে সেদিন কাজে গিয়ে গুরুতর জখম হন সন্দীপ নামের এক শ্রমিক, যাঁকে শুক্রবার এসএসকেএম হাসপাতালে দেখতে যান ধর্মেন্দ্র। এই বিপর্যয়ের পর কলকাতার অন্যান্য নির্মীয়মাণ ভবনের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ কমিটি গঠন করতে বাধ্য হয়েছে রাজ্য সরকার। অন্যদিকে, মৃত্যুকূপ থেকে বেঁচে ফিরে মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন ধর্মেন্দ্র।