‘বিকেল ৫টার মধ্যে গ্রেফতারি কি ন্যায়বিচার?’ ফিরহাদকে নিয়ে শুভেন্দুকে চ্যালেঞ্জ কুণালের

কলকাতা: তারাতলায় গোডাউন ভেঙে পড়ার ঘটনায় কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের হতেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ। এই আবহে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সরাসরি ‘পরীক্ষা’য় ফেললেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, যদি আজ বিকেল ৫টার মধ্যে ফিরহাদ হাকিম গ্রেফতার না হন, তবে স্পষ্ট হয়ে যাবে যে মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় যে নথি দেখিয়েছেন, তা কেবল ‘চাপ’ সৃষ্টির কৌশল ছিল।
কী পরীক্ষা কুণালের?
শনিবার সকালে একটি পোস্টের মাধ্যমে কুণাল ঘোষ বলেন, “আজ বিকেল ৫টায় পরীক্ষা। যদি এই সময়ে ফিরহাদ হাকিম কিছু কাউন্সিলরকে সঙ্গে নিয়ে কর্মসূচি পালন করেন, তাহলে প্রমাণ হবে মুখ্যমন্ত্রী ন্যায়বিচারের জন্য নয়, রাজনৈতিক চাপ তৈরির জন্যই বিধানসভায় মেয়রের সই-সহ নথি দেখিয়েছিলেন। আর যদি ফিরহাদ গ্রেফতার হন, তবে প্রমাণিত হবে মুখ্যমন্ত্রী সত্যিই ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিবৃতি দিয়েছিলেন।”
তারাতলা কাণ্ডে অভিযোগের কেন্দ্রে ফিরহাদ
ভারতীয় জনতা মজদুর সেলের (BJMC) দক্ষিণ কলকাতা শাখার তরফে তারাতলার দুর্ঘটনার ঘটনায় ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে নাম রয়েছে ৮০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর আনোয়ার খান এবং ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর সামস ইকবালেরও। BJMC-র অভিযোগ, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং বেআইনি নির্মাণের ফলেই এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
ফিরহাদের সাফাই ও কুণালের অবস্থান
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রাক্তন মেয়র আগেই জানিয়েছেন, কোনো নির্মাণ নকশায় অনুমোদন দেওয়ার এক্তিয়ার মেয়রের থাকে না। বিল্ডিং ডিপার্টমেন্ট সম্পূর্ণ বিষয়টি খতিয়ে দেখে।
অন্যদিকে, কুণাল ঘোষ এদিন নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে জানান, “ববিদার (ফিরহাদ) সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালো। আমি সই মানেই অপরাধ—এটা বিশ্বাস করি না। কিন্তু খোদ মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় যে ভাষণ দিয়েছিলেন, সেখান থেকেই এই প্রশ্নগুলো উঠে আসছে।”
মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী দলনেতার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণ এবং তারাতলা কাণ্ডে প্রাক্তন মেয়রের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ—সব মিলিয়ে আগামী কয়েক ঘণ্টা রাজ্যের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।