মাদকের ওজন ও ভিডিও নিয়ে গাফিলতি! ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ৪ জনকে মুক্তি দিল হাইকোর্ট

কলকাতা: মাদক উদ্ধার মামলায় পুলিশের বড়সড় গাফিলতির অভিযোগে ৪ ব্যক্তির ১০ বছরের কারাদণ্ডের সাজা বাতিল করল কলকাতা হাইকোর্ট। বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়ার ভিডিও না করা এবং মাদকের ওজনে গরমিল থাকার কারণে বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায়ের ডিভিশন বেঞ্চ অভিযুক্তদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
কেন এই রায়?
২০২১ সালের ২৩ মে নদিয়ার নাকাশিপাড়ায় ৫২৫ কেজি মাদক উদ্ধারের ঘটনায় কৃষ্ণনগর জেলা আদালত সমীর দাস, জহিরুদ্দিন শেখ, গোপাল দাস এবং বিজয় বিশ্বাসকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। হাইকোর্ট এই মামলায় পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে:
- ভিডিওগ্রাফিতে গাফিলতি: আদালত বারবার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও তল্লাশি ও সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করার সময় কেন ভিডিওগ্রাফি করা হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বেঞ্চ। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বর্তমানে প্রায় সবার কাছেই স্মার্টফোন থাকে। অথচ তদন্তকারী দল বা এসটিএফ-এর কাছে ভিডিও করার কোনো সরঞ্জাম ছিল না, যা অত্যন্ত আশ্চর্যজনক।
- ওজনে অসংগতি: ৫২৫ কেজি মাদক উদ্ধারের দাবি করা হলেও নথিতে তা দেখানো হয়েছে ৫৪৯ কেজি। কেন এই পার্থক্য, তার কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ বা সাক্ষ্য প্রসিকিউশন দিতে পারেনি। আর্দ্রতার কারণে ওজন বেড়েছে বলে যে দাবি করা হয়েছিল, তা-ও খারিজ করেছে আদালত।
- সাক্ষীদের বিশ্বাসযোগ্যতা: তদন্তকারী দলের সদস্যরা নিজেরাই নিজেদের মামলার সাক্ষী ছিলেন। আদালত জানিয়েছে, তল্লাশিকারী দলের সদস্যদের সাক্ষ্যের ওপর তারা নির্ভর করতে ইচ্ছুক নয়।
আদালতের কড়া বার্তা:
হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, বারবার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তদন্তকারী সংস্থাগুলোর এই ধরনের শৈথিল্য মেনে নেওয়া যায় না। নিরপেক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতির অভাব এবং নথিপত্রের এই অসংগতির কারণে মামলাটি ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়। ফলস্বরূপ, প্রায় দু’বছর পর অভিযুক্তদের কারামুক্তির নির্দেশ দিল হাইকোর্ট।