নিউজক্লিক জয়ী হলেও কর্মীরা ‘ব্ল্যাকলিস্টেড’! আইনি মুক্তির পরেও কি মিলছে না কাজ?

কলকাতা: আইনি লড়াইয়ে জয় এসেছে ঠিকই, কিন্তু বাস্তব জীবনে এখনও অন্ধকার কাটেনি নিউজক্লিক (NewsClick) পোর্টালের প্রাক্তন কর্মীদের। দিল্লি হাইকোর্ট সংস্থার বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের মামলা খারিজ করে দিয়ে তাকে ‘আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার’ বলে অভিহিত করলেও, সংবাদমাধ্যমের অন্দরে তৈরি হওয়া এক অদৃশ্য ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ ধ্বংস করছে অনেকের ক্যারিয়ার।
আদালতের রায়েও কেন ফিরছে না স্বাভাবিক জীবন?
আদালত নিউজক্লিক ও প্রবীর পুরকায়স্থকে ক্লিনচিট দিলেও, মূলধারার সংবাদমাধ্যম ও কর্পোরেট সংস্থাগুলোর মানসিকতায় তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত ভীতি। প্রাক্তন কর্মীদের অভিযোগ, বড় মিডিয়া হাউসে ইন্টারভিউ দিতে গেলে তাঁদের দক্ষতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা হচ্ছে না, কিন্তু যেইমাত্র সিভি-তে ‘নিউজক্লিক’-এর নাম দেখা যাচ্ছে, তখনই থমকে যাচ্ছে সব। কর্মীরা জানাচ্ছেন, নিয়োগকর্তারা ভয় পাচ্ছেন— এঁদের চাকরি দিলে যদি সরকারের বা আয়কর দপ্তরের নজর তাদের ওপর পড়ে!
যেভাবে থমকে গেছে অনেকের জীবন:
- আর্থিক অনিশ্চয়তা: ২০২৩ সালের শেষে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়ার পর ২০২৪-এর শুরুতে বাধ্য হয়েই বেশিরভাগ কর্মীকে ছাঁটাই করতে হয়েছিল। গত দুই বছর ধরে জমানো পুঁজি ভেঙে কোনোক্রমে টিকে আছেন অনেকে।
- যন্ত্রই কেড়েছে সুযোগ: ২০২৩ সালে দিল্লি পুলিশ যখন ৮০ জন কর্মীর ল্যাপটপ, মোবাইল ও হার্ড ড্রাইভ বাজেয়াপ্ত করেছিল, তখন অনেক সাংবাদিক তাঁদের কাজের পোর্টফোলিও ও নথিপত্র হারিয়েছিলেন। মাসের পর মাস ডিজিটাল ডিভাইস আটকে থাকায় অন্য কোথাও কাজের আবেদন করার ন্যূনতম সুযোগটুকুও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
- পেশা বদলের বাধ্যবাধকতা: রুটিরুজির টানে কেউ কেউ নামমাত্র পারিশ্রমিকে ফ্রিল্যান্স কাজ করছেন, আবার কেউ বাধ্য হয়ে দীর্ঘদিনের প্রিয় সাংবাদিকতার জগতই ছেড়ে দিয়েছেন।
আইনি রায় বনাম জীবনের ট্রমা:
আধুনিক ভারতের স্বাধীন সাংবাদিকতার এই ঘটনা এক বিপজ্জনক প্রবণতাকে সামনে এনেছে— যেখানে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার অনেক আগেই ‘আইনি প্রক্রিয়া’-কে শাস্তির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। আর্থিক রসদ বন্ধ করা বা সামাজিক বয়কটের আবহ তৈরি করে একটি সংস্থাকে পঙ্গু করে দেওয়ার এই খেলার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ কর্মীদের।
আদালতের রায়ে নিউজক্লিকের গায়ে লেগে থাকা দাগ মুছে গেছে, কিন্তু যে তরুণ ও অভিজ্ঞ সাংবাদিকরা এই ব্যবস্থার যাঁতাকলে পিষে গিয়ে মানসিক ট্রমার শিকার হয়েছেন, তাঁদের হারিয়ে যাওয়া ক্যারিয়ার এবং রুটিরুজি ফিরে পাওয়ার লড়াইটা আদালতের বাইরের বাস্তব দুনিয়ায় অনেক বেশি কঠিন ও দীর্ঘ।