নিজের মন্ত্রকের প্রকল্প থেকেই কোটি টাকার ভর্তুকি! বিতর্কের কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় কৃষি প্রতিমন্ত্রী

নিজের মন্ত্রকের প্রকল্প থেকেই কোটি টাকার ভর্তুকি! বিতর্কের কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় কৃষি প্রতিমন্ত্রী

নয়াদিল্লি: নিজের দফতরের অধীনে থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা পকেটে পুরে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছেন কেন্দ্রীয় কৃষি প্রতিমন্ত্রী ভগীরথ চৌধুরী। জানা গেছে, ন্যাশনাল হর্টিকালচার বোর্ড (NHB)-এর একটি প্রকল্প থেকে বাণিজ্যিক শসা চাষের জন্য প্রায় ৯৯ লক্ষ ৩ হাজার টাকার সরকারি ভর্তুকি নিয়েছেন খোদ মন্ত্রীমশাই।

ঠিক কী অভিযোগ?

কেন্দ্রীয় সরকারের ‘মিশন ফর ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অব হর্টিকালচার’ (MIDH) প্রকল্পের অধীনে এই ভর্তুকি প্রদান করা হয়। ন্যাশনাল হর্টিকালচার বোর্ড এই প্রকল্পের কাজ দেখভাল করে, আর নিয়মানুযায়ী এই বোর্ডের সহ-সভাপতি হলেন কেন্দ্রীয় কৃষি প্রতিমন্ত্রী। অর্থাৎ, যে দফতরের ভর্তুকি মঞ্জুর করার ক্ষেত্রে পরোক্ষ ক্ষমতা মন্ত্রীর হাতে থাকে, সেই দফতরের প্রকল্প থেকেই আর্থিক সুবিধা নেওয়ায় বিরোধীরা দুর্নীতির অভিযোগ তুলছেন।

মন্ত্রীর সাফাই:

বিতর্ক মাথাচাড়া দিতেই আত্মপক্ষ সমর্থন করে ভগীরথ চৌধুরী বলেন, “আমি রাজনীতিতে আসার বহু আগে থেকেই একজন কৃষক। আমি কোনও কিছুই গোপন করিনি। ২০১৮ সালে যখন আমি মন্ত্রী ছিলাম না, তখনই ভর্তুকির জন্য আবেদন করেছিলাম।” তিনি দাবি করেন, নিয়ম মেনেই তিনি এই সুবিধা নিয়েছেন এবং নিজের খামারে স্থানীয় কৃষকদের আধুনিক চাষের প্রশিক্ষণ দেন। সরকারি সূত্রের দাবি, ভর্তুকি অনুমোদনের জন্য পৃথক কমিটি থাকে, সেখানে মন্ত্রীর সরাসরি ভূমিকা নেই।

বিরোধীদের তোপ:

মন্ত্রীর সাফাই সত্ত্বেও তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক তরজা:

  • কংগ্রেস: পবন খেরা কটাক্ষ করে বলেন, “এখানে আবেদনকারী, মঞ্জুরকারী এবং উপভোক্তা—সবই এক ব্যক্তি। বেড়ায় যদি খেত খায়, তবে ফসল বাঁচবে কীভাবে?”
  • সিপিএম: সাংসদ জন ব্রিটনস একে ‘ডাইরেক্ট ফ্যামিলি ট্রান্সফার’ (DFT) বলে তোপ দেগেছেন।
  • তৃণমূল: রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষের দাবি, মোদী সরকারের স্বচ্ছতার দাবি এখন প্রশ্নের মুখে।
  • শিবসেনা (ইউবিটি): প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী অভিযোগ করেন, বিজেপির দুর্নীতির মডেল প্রতিদিন ফাঁস হয়ে যাচ্ছে।

শসা চাষের এই ভর্তুকি নিয়ে বিরোধীদের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান কেন্দ্রীয় সরকারের অস্বস্তি যে আরও বাড়াল, তা স্পষ্ট।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *