মাত্র ১৭-তেই নিখোঁজ, ১২ বছর পর সোনার পদক নিয়ে ঘরে ফিরল মূক ও বধির মেয়ে

কোচবিহার: দীর্ঘ ১২ বছরের অপেক্ষা। মেয়ের ফেরার আশা যখন প্রায় শেষ হয়ে এসেছিল, ঠিক তখনই ঘটল এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। একচালা টিনের ঘরে ফিরে এল মায়া। কোচবিহারের বক্সিরহাট থানার বালাকুঠি গ্রামের বাসিন্দা মায়া বর্মন জন্ম থেকেই মূক ও বধির। ২০১৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে পরিবারের অজান্তেই নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল সে।
কীভাবে নিখোঁজ হয় মায়া? পরিবার সূত্রে খবর, পেটের টানে কাজের সন্ধানে বেরিয়ে ভুল ট্রেনে উঠে পড়েছিল মায়া। পৌঁছে গিয়েছিল উত্তর দিনাজপুরে। অসহায় অবস্থায় স্টেশন চত্বরে ঘোরাঘুরির সময় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে নিজের পরিচয় বা ঠিকানা দিতে না পারায় সরকারি শিশু কল্যাণ কমিটির মাধ্যমে তাকে পাঠানো হয় হাওড়ার বাগনানের একটি সরকারি হোমে। ১২ বছর সেই হোমের আশ্রয়েই বড় হয় মায়া।
বিশ্বমঞ্চে সাফল্য: হোমে থাকাকালীনই মায়ার মধ্যে লুকিয়ে থাকা প্রতিভার বিকাশ ঘটে। সে ভলিবল খেলায় দক্ষ হয়ে ওঠে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের একাধিক ভলিবল প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় মায়া। বিশেষ করে, ২০২৩ সালে জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত ‘স্পেশ্যাল অলিম্পিকস’-এ দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করে সে জিতে নেয় সোনা।
আধার কার্ডের সূত্র ধরে প্রত্যাবর্তন: দীর্ঘদিন বাদে মায়ার ঠিকানার সন্ধান মেলাটা ছিল প্রায় মিরাকেলের মতো। সম্প্রতি হোমের পক্ষ থেকে মায়ার আধার কার্ড তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। বায়োমেট্রিক তথ্য বা আঙুলের ছাপ দিতেই আধার কর্তৃপক্ষ পুরনো তথ্যের সঙ্গে তা মিলিয়ে ফেলে। এরপরই হোমের কর্মীরা স্থানীয় থানার মাধ্যমে যোগাযোগ করেন মায়ার পরিবারের সঙ্গে। খবর পেয়েই বাবা মনোজ বর্মন ছোটেন হাওড়ার হোমে। মেয়ের সাফল্যের ঝুলিতে একের পর এক স্বর্ণপদক দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। আদালতের অনুমতি নিয়ে গত বুধবার শেষ পর্যন্ত প্রিয়জনের কাছে ফিরে এসেছে বার্লিন ফেরত সোনার মেয়ে মায়া বর্মন।