হরমুজে ট্রাম্পের ‘টোল ট্যাক্স’, জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় কাঁপছে ভারত

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ফের এক নতুন সংকটের মেঘ। হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী পণ্যবাহী জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ অতিরিক্ত ‘চার্জ’ বা টোল ট্যাক্স বসানোর ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা ভারতের অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেন এই নতুন টোল ট্যাক্স?
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ। এই পথে বাণিজ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মার্কিন নৌবাহিনীকে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়। সেই ব্যয়ের ক্ষতিপূরণ হিসেবেই জাহাজগুলোর ওপর এই ২০ শতাংশ চার্জ আরোপ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ বা ব্লকেড আরোপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ওয়াশিংটন।
ভারতের ওপর প্রভাব: উদ্বেগের কারণ কী?
ভারতের জ্বালানি চাহিদার সিংহভাগই এই প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল:
- তেল ও গ্যাস: ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশ আসে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে, যা হরমুজ প্রণালী দিয়েই ভারতে পৌঁছায়। এলএনজি (LNG) আমদানির ক্ষেত্রেও এই পথটি অপরিহার্য।
- জ্বালানির দাম: ২০ শতাংশ চার্জের পাশাপাশি যুদ্ধকালীন ঝুঁকির কারণে জাহাজের বিমা প্রিমিয়ামও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এর ফলে দেশে পেট্রোল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের দাম লাগামহীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
- মূল্যস্ফীতি: পরিবহণ খরচ বাড়লে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হু হু করে বাড়তে পারে।
- অর্থনৈতিক চাপ: আমদানি বিল বাড়লে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বাড়বে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে টাকার মানের ওপর।
ভারত কতটা প্রস্তুত?
এই সংকট মোকাবিলায় ভারত আগে থেকেই কৌশল পরিবর্তন করেছে:
গত তিন মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কিছুটা কমিয়ে বিকল্প উৎস থেকে আমদানিতে জোর দিয়েছে। বর্তমানে ভারত রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ তেল কেনার পাশাপাশি আমেরিকা, পশ্চিম আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলো থেকেও তেল সংগ্রহ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিকল্প ব্যবস্থা সরাসরি বড় ধরনের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করলেও, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়া একরকম অনিবার্য।