কৃষিকাজের আড়ালে মৃত্যুফাঁদ! কেন্দ্র নিষিদ্ধ করল রাজ্যের অন্যতম প্রাণঘাতী এই কীটনাশক

কৃষিক্ষেত্রে আগাছানাশক হিসেবে ব্যবহৃত ‘প্যারাকোয়াট ডাইক্লোরাইড’ (Paraquat Dichloride) আসলে এক চরম মৃত্যুফাঁদ। দীর্ঘদিন ধরে এই বিষাক্ত রাসায়নিক নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা। অবশেষে সেই দাবিতে শিলমোহর দিয়ে দেশে প্যারাকোয়াট নিষিদ্ধ করল কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রের এই জনস্বাস্থ্যবান্ধব সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন চিকিৎসক মহল।
কেন এত ভয়ংকর এই প্যারাকোয়াট?
- নেই কোনও প্রতিষেধক: বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. রজত বাসু জানান, বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী এই কীটনাশকের নির্দিষ্ট কোনও অ্যান্টিডোট বা প্রতিষেধক এখনও নেই। সামান্য পরিমাণে শরীরে প্রবেশ করলেও মৃত্যু প্রায় অবধারিত।
- চরম যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু: বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. রুদ্রজিৎ পাল বলেন, “এই বিষ পান করলে রোগীর মুখে কেমিক্যাল বার্ন হয় এবং ফুসফুস ও কিডনি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু হয় না, বরং রোগী চরম কষ্ট পেতে পেতে ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। চিকিৎসক হিসেবে আমাদের কিছুই করার থাকে না।”
- সর্বাধিক মৃত্যুহার: একটি হাসপাতালভিত্তিক সমীক্ষার পরিসংখ্যান তুলে ধরে ডা. বাসু জানান, সাধারণ বিষক্রিয়ায় মৃত্যুহার যেখানে প্রায় ১৫ শতাংশ, সেখানে প্যারাকোয়াট বিষক্রিয়ায় মৃত্যুহার প্রায় ৭৪ শতাংশ!
বাংলার চিত্র ঠিক কী?
কৃষিপ্রধান দেশ হওয়ায় ভারতে কীটনাশক অত্যন্ত সহজলভ্য। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে কীটনাশক পান করা একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। দেশের মোট আত্মহত্যার ২০ থেকে ৩০ শতাংশই ঘটে কীটনাশকের বিষক্রিয়ায়।
পশ্চিমবঙ্গের চিত্রটাও বেশ উদ্বেগজনক। রাজ্যে বিষপানের সহজলভ্যতার তালিকায় প্যারাকোয়াটের স্থান পঞ্চম। সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলিতে প্রায় প্রতিদিনই এই বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করা রোগীর ভিড় দেখা যায়। ফসল কাটার সুবিধার্থে এবং মুগের খোসা ছাড়াতেও এই বিষ স্প্রে করার অভিযোগ উঠছিল বিভিন্ন জায়গা থেকে। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রের এই নিষেধাজ্ঞার ফলে রাজ্যে আত্মহত্যার হার কমার পাশাপাশি বহু অমূল্য প্রাণ অকালমৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পাবে।