ট্রেনের ধাক্কায় দলা পাকিয়ে গেল স্কুলভ্যান! মুর্শিদাবাদে নিহত ২ শিশু-সহ ৩, ক্ষতিপূরণ ঘোষণা রেলের

মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণে সাতসকালে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। গোবিন্দপুর রেলগেটে স্কুল পড়ুয়া বোঝাই একটি পুলকারে ধাক্কা মারল নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার। এই ভয়ংকর দুর্ঘটনায় ২ শিশু এবং এক প্রবীণ সাইকেল আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আহত আরও ৬ জন পড়ুয়া।
এক নজরে দুর্ঘটনার মূল তথ্য:
- হতাহত: ২ স্কুল পড়ুয়া এবং ১ সাইকেল আরোহীর মৃত্যু। চালক-সহ ৬ পড়ুয়া গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
- দুর্ঘটনার কারণ: প্রথম ট্রেন যাওয়ার পরেই লেভেল ক্রসিংয়ের গেট তুলে দেন গেটম্যান। দ্বিতীয় ট্রেনটি আসার কথা খেয়াল না করাতেই এই বিপত্তি।
- ক্ষতিপূরণ: মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।
- পদক্ষেপ: কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে গেটম্যান অনুপ কর্মকারকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা? স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শুক্রবার সকালে বহরমপুর থানার গোবিন্দপুর রেলগেটে একটি ট্রেন চলে যাওয়ার পর গেটম্যান রেলগেটটি খুলে দেন। সেই খোলা গেট দিয়ে শিশুদের নিয়ে স্কুলভ্যানটি এবং এক সাইকেল আরোহী লাইন পার হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী দ্বিতীয় আরেকটি ট্রেন যাওয়ার কথা ছিল। ঠিক তখনই লাইনে দ্রুতগতিতে ঢুকে পড়ে নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার। ট্রেনের সজোরে ধাক্কায় রীতিমতো দুমড়ে-মুচড়ে যায় স্কুলভ্যানটি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই তিনজনের।
নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া ও তৎপরতা খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন বহরমপুরের বর্ষীয়ান নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি সেখান থেকেই সরাসরি রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে ফোন করে পরিস্থিতির কথা জানান। এরপরই রেলের তরফ থেকে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। অন্যদিকে, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন বিজেপি নেতা গৌরীশঙ্কর ঘোষ। রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, দোষী গেটম্যানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সমস্ত আহত শিশুদের দ্রুত উদ্ধার করে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।