পুরসভা থেকে আর মিলবে না বার্থ সার্টিফিকেট? সংসদে কড়া বিল আনছে কেন্দ্র!

পুরসভা থেকে আর মিলবে না বার্থ সার্টিফিকেট? সংসদে কড়া বিল আনছে কেন্দ্র!

ভোটার তালিকায় ভুয়ো নাম তোলা এবং অনুপ্রবেশ রুখতে এবার কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশনে জন্ম-মৃত্যুর নথিভুক্তিকরণ সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করতে চলেছে কেন্দ্র। এই বিল পাশ হলে ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র তৈরির রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

কী থাকছে নতুন বিলে?

  • নিয়মে বড় বদল: জন্ম বা মৃত্যুর নথিবদ্ধকরণে ২ বছর বা তার বেশি দেরি হলে, স্থানীয় পুরসভা বা অন্য কোনও বিধিবদ্ধ সংস্থা আর শংসাপত্র ইস্যু করতে পারবে না।
  • যেতে হবে জেলাশাসকের কাছে: ২ বছর পার হয়ে যাওয়ার পর বার্থ সার্টিফিকেটের জন্য আবেদনকারীকে সরাসরি জেলাশাসক (DM), মহকুমাশাসক (SDO) বা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করতে হবে।

কেন এই কড়া পদক্ষেপ?

ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনী অভিযান (SIR) চলাকালীন একাধিকবার অভিযোগ উঠেছে যে, প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন পুরসভা থেকে ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র বের করে নিচ্ছেন অনুপ্রবেশকারীরা। অন্য প্রামাণ্য নথির অভাবে এই জন্ম শংসাপত্র দেখিয়েই অনায়াসে ভোটার তালিকায় নাম তুলছেন তাঁরা। এই প্রক্রিয়ায় কলকাতা পুরসভা সহ রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধেও ভুয়ো ভোটার তৈরির ক্ষেত্রে মদত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল।

কী প্রভাব পড়বে?

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পুরসভায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাজ হাসিল করা যতটা সহজ, জেলাশাসক বা মহকুমাশাসকের দপ্তরে কারচুপি করা ততটাই কঠিন। ১৮ বছর পর কেউ যদি ভোটার কার্ড করার জন্য বার্থ সার্টিফিকেট বানাতে যান, তবে কড়া প্রশাসনের নজরদারিতে তিনি প্রকৃত ভারতীয় কি না, তা সহজেই ধরা পড়বে। ফলে ভুয়ো জন্ম শংসাপত্রের মাধ্যমে ভোটার কার্ড তৈরির জালিয়াতি একেবারে বন্ধ হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *