নীল চোখে জ্বলবে আলো! কুমোরটুলিতে প্রথমবার তৈরি হচ্ছে রোবোটিক ‘AI’ দুর্গা

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কুমোরটুলির যে গলিতে মাটির গন্ধ আর সাবেকিয়ানার বাস, সেখানেই এবার পা রাখল অত্যাধুনিক প্রযুক্তি! প্রথমবারের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)-এর সাহায্যে কুমোরটুলিতে তৈরি হচ্ছে এক অভিনব রোবোটিক দুর্গা প্রতিমা। যার নীল চোখে জ্বলজ্বল করবে আলো।
কোথায় যাচ্ছে এই অভিনব প্রতিমা? উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জের একটি দুর্গাপুজো কমিটির জন্য এই বিশেষ প্রতিমা গড়ছেন কুমোরটুলির প্রখ্যাত শিল্পী ইন্দ্রজিৎ পাল। তাঁর দাবি, বাংলায় এআই-অনুপ্রাণিত রোবোটিক দুর্গা প্রতিমা তৈরির এটি অন্যতম প্রথম এবং অভিনব উদ্যোগ।
AI-এর ভুল শুধরে দিচ্ছে মানুষের হাত এআই চমৎকার ডিজাইন তৈরি করলেও, তা কিন্তু একেবারে নিখুঁত ছিল না। শিল্পী ইন্দ্রজিৎ পাল জানান, এআই-এর তৈরি নকশায় বেশ কিছু বড়সড় ত্রুটি ছিল। কোথাও দশভূজার হাতে অস্ত্র নেই, তো কোথাও কার্তিক, লক্ষ্মী বা সরস্বতীর বাহনই উধাও! তাই অন্ধভাবে প্রযুক্তির ওপর ভরসা না করে, কুমোরটুলির শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য ও শাস্ত্রীয় রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজের হাতেই সেই ত্রুটি সংশোধন করেছেন শিল্পী।
প্রতিমা ও মণ্ডপের বিশেষ চমক:
- ভিন্নরূপী মহিষাসুর: প্রচলিত রীতির বাইরে গিয়ে এই প্রতিমায় অসুরের রূপটি সম্পূর্ণ আলাদা। মানুষের শরীর এবং মহিষের মাথার সংমিশ্রণে তৈরি হচ্ছে এই মহিষাসুর, যা প্রতিমাটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।
- মণ্ডপেও প্রযুক্তির ছোঁয়া: শুধু প্রতিমা নয়, দর্শকদের এক নতুন অভিজ্ঞতা দিতে গোটা পুজো মণ্ডপও সাজানো হচ্ছে এআই-নির্মিত নকশার ভিত্তিতে রোবট-অনুপ্রাণিত থিমে।
থিমের মূল বার্তা কী? উদ্যোক্তা ও শিল্পীর কথায়, এই থিমের মধ্যে দিয়ে একটি বিশেষ বার্তা দেওয়া হচ্ছে— প্রযুক্তি মানুষের কল্পনাশক্তিকে হয়তো বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে, কিন্তু ঐশ্বরিক শক্তি বা সৃষ্টিশীলতার কোনো বিকল্প নেই। প্রযুক্তি বা এআই যতই উন্নত হোক না কেন, বিশ্বাস আর শিল্পের জায়গায় মানুষের হাতের ছোঁয়াই শেষ কথা বলবে।