নকল জিনিস বেচে চরম বিপাকে জনপ্রিয় এই ই-কমার্স সংস্থা! গুনতে হবে ৫,৫০০ কোটি টাকা

অনলাইন কেনাকাটার দুনিয়ায় বড়সড় ধাক্কা খেল জনপ্রিয় চিনা ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ‘আলিএক্সপ্রেস’ (AliExpress)। নিজেদের সাইটে নকল, অবৈধ এবং ক্রেতাদের জন্য বিপজ্জনক পণ্য বিক্রি রুখতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে তারা। আর এই গাফিলতির জেরেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) কো ম্পা নিটিকে ৫৫ কোটি ইউরো বা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫,৫০০ কোটি টাকার বিশাল জরিমানা করেছে।
কেন এই বিপুল অঙ্কের জরিমানা? ইউরোপীয় কমিশনের তদন্তে আলিএক্সপ্রেসের বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুতর গাফিলতির প্রমাণ মিলেছে:
- মানদণ্ড লঙ্ঘন: ইউরোপের নিরাপত্তা ও পরিবেশগত নিয়ম নীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্ল্যাটফর্মে খেলনা, প্রসাধনী এবং বিভিন্ন ব্যবহার্য জিনিস বিক্রি করা হচ্ছিল।
- অবৈধ পণ্যের প্রত্যাবর্তন: প্ল্যাটফর্ম থেকে একবার অবৈধ পণ্য সরিয়ে নেওয়ার পরও, তা কোনো না কোনোভাবে পুনরায় ফিরে আসছে বলে তদন্তে দেখা যায়।
- বিপজ্জনক পণ্যের প্রচার: গ্রাহকদের অনেক ক্ষেত্রে সেই অনিরাপদ বা বিপজ্জনক জিনিসগুলিই কেনার জন্য রিকমেন্ড করা হচ্ছিল।
ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্টের কোপ ২০২২ সালে চালু হওয়া ইউরোপের ‘ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট’ (DSA)-এর অধীনে এই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, বড় ই-কমার্স সাইটগুলিকে উপভোক্তাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হয়। এই আইন মেনেই ২০২৪ সালের মার্চ মাসে আলিএক্সপ্রেসের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছিল ইইউ।
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জরিমানা অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্মের দুনিয়ায় এত বড় অঙ্কের জরিমানা এর আগে কাউকে দিতে হয়নি। এর আগে ইলন মাস্কের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’ (১২ কোটি ইউরো) এবং আরেক চিনা সংস্থা ‘টেমু’-কে (২০ কোটি ইউরো) জরিমানার মুখে পড়তে হয়েছিল। তবে আলিএক্সপ্রেসের জরিমানার অঙ্ক সেই রেকর্ডও ছাপিয়ে গিয়েছে।
কী বলছে আলিএক্সপ্রেস? ইইউ-এর এই সিদ্ধান্তকে একেবারেই মানতে নারাজ আলিএক্সপ্রেস। একে ‘মাত্রাতিরিক্ত’ আখ্যা দিয়ে চিনা কো ম্পা নিটির দাবি, প্ল্যাটফর্মের উন্নতিতে তারা যে পদক্ষেপগুলি নিয়েছে, তা ইউরোপীয় ইউনিয়ন এড়িয়ে গিয়েছে। এই বিপুল জরিমানার বিরুদ্ধে তারা আইনি পদক্ষেপের কথাও ভাবছে।
উল্লেখ্য, ইউরোপ হলো আলিএক্সপ্রেসের সবচেয়ে বড় বাজার, যেখানে তাদের প্রায় ১৯ কোটি ৩০ লক্ষ সক্রিয় গ্রাহক রয়েছে। আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে এই ৫,৫০০ কোটি টাকা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংস্থাটিকে। অন্যথায় আরও বড় শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে তাদের।