‘মুখ খুলতে বাধ্য করবেন না, সব ফাঁস করে দেব!’ একুশের মঞ্চ থেকে কাকে কড়া হুঁশিয়ারি মমতার?

একুশে জুলাইয়ের ঐতিহাসিক শহিদ স্মরণসভা থেকে এবার নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না করলেও তাঁর নিশানায় যে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট। প্রশাসনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে মমতার কড়া হুঁশিয়ারি, “মুখ খুলতে বাধ্য করবেন না। আপনি ১০ বছর তৃণমূলে থেকে কী করেছেন, আমি সব জানি।”
‘মুখ খুললে মুখোশ খুলে দেব’ রাজ্যের বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা অভিযোগ করেন, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বদলে তৃণমূলের সংগঠন ও আন্দোলনকে দুর্বল করতেই বেশি ব্যস্ত সরকার। এই প্রসঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তিনি বলেন, “মুখ খুললে আপনার সমস্ত মুখোশ খুলে দেব।” তাঁর স্পষ্ট দাবি, বিরোধী শিবির ও তৃণমূলের ওপর সরকারের এই চাপ সৃষ্টি আর কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
বিজেপি এখন ‘তারকাটা পার্টি’ সোমবার গভীর রাতে একুশের সভাস্থলে তাণ্ডব এবং মাইক ও বিদ্যুতের তার কেটে দেওয়ার অভিযোগ আগেই তুলেছিল তৃণমূল। এদিনের সভা থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বিজেপিকে ‘তারকাটা পার্টি’ বলে চরম কটাক্ষ করেন মমতা। তিনি জানান, নানা ভয়ভীতি ও বাধা উপেক্ষা করেও শহিদ পরিবারের সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কালীঘাটের এই স্মরণসভায় যোগ দিয়েছেন। শহিদদের আত্মত্যাগকে আজও মানুষ ভোলেনি।
এদিনের এই হাই-ভোল্টেজ সভায় মমতার পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব। কালীঘাটের মঞ্চে দেখা যায় কীর্তি আজাদ, বাবুল সুপ্রিয়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, সৌগত রায়, মহুয়া মৈত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সাগরিকা ঘোষ, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের একাধিক হেভিওয়েট নেতা-নেত্রীকে।