‘বেশি কথা বোলো না, ১০ বছরে কী করেছ সব ফাঁস করে দেব!’ একুশের মঞ্চ থেকে কাকে চরম হুঁশিয়ারি মমতার?

একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে ফের একবার রাস্তায় নেমে লড়াইয়ের কড়া বার্তা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘গদ্দার’ ও ‘বেইমানদের’ দলে ফেরানো হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি, পুলিশ এবং বর্তমান বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি।
খবরের মূল হাইলাইটস:
- ‘চোর-গদ্দারদের আর ফেরাব না’: দলত্যাগীদের নিশানা করে মমতার কড়া বার্তা, এজেন্সির ভয়ে যারা পালিয়েছে, দলে তাদের আর জায়গা নেই।
- লড়াইয়ের ডাক: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ৪০০ মামলার প্রসঙ্গ তুলে কর্মীদের উদ্দেশ্যে বার্তা— জেলে ভরলেও ভয় না পেয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
- পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ: পুলিশের বিরুদ্ধে ‘বিজেপির জেলা সভাপতির’ মতো কাজ করার গুরুতর অভিযোগ তুললেন তৃণমূল নেত্রী।
- বর্তমান সরকারের সমালোচনা: আড়াই মাসের বিজেপি সরকারের আমলে ২২টি ধর্ষণের অভিযোগ তুলে রাজ্য সরকারকে তুলোধনা।
‘গদ্দারদের আর ফেরাব না’ এদিনের মঞ্চ থেকে দলত্যাগীদের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এতো খেয়েছ যে এজেন্সির একটা ফোনে ভয় পেয়ে গেলে! তোমরা তো এতো কিছু পেয়েছ! আর আমার গ্রাম-বাংলার কর্মীরা শুধু ভালোবেসে লড়াই করেছে।” সভা থেকে আওয়াজ ওঠে ‘গদ্দারদের আর নয়’, তাতে গলা মিলিয়ে নেত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে চোর-বেইমানদের আর দলে ফেরানো হবে না। পাশাপাশি, ৪০০টি মামলা দায়ের হওয়ার পরেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইয়ের প্রশংসা করেন তিনি। কর্মীদের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা, “মামলা করে জেলে ঢোকাবে! ৭ দিন জেল থেকে ঘুরে এসে আবার নামুন। ওদের শিরদাঁড়াটা ভেঙে নুইয়ে দিন।”
‘পুলিশ বিজেপির জেলা সভাপতির কাজ করছে’ আদালতের নির্দেশে সভার অনুমতি পেলেও রাতের অন্ধকারে একুশের মঞ্চে ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। তিনি বলেন, “এই পুলিশ আমার চেনা নয়। এই আড়াই মাসে মানুষ বুঝতে পারছেন, পুলিশ নিজের কাজটা ছেড়ে বিজেপির জেলা প্রেসিডেন্টের কাজ করছে।” মঞ্চ ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের তিনি চেনেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
বিজেপি সরকারকে কড়া আক্রমণ বর্তমান রাজ্য সরকারকে নিশানা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, আড়াই মাসের বিজেপি সরকারের আমলে রাজ্যে ২২টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। রাজ্যে ‘ভোট লুঠের সরকার’ চলছে বলেও তিনি কটাক্ষ করেন। নাম না করে এক নেতাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “সকাল বিকেল খুব ডায়ালগ দিচ্ছে। বেশি কথা বোলো না। ১০ বছর কী করেছ, সব বলে দেব।”
সবশেষে, নাট্যব্যক্তিত্ব চন্দন সেনের বক্তব্যের সূত্র ধরে মমতা বলেন, এখন একজোট হয়ে লড়াইয়ের সময়। বিজেপিকে হারাতে জোট বাঁধতে হবে এবং এই লড়াই কলকাতা থেকে দিল্লি পর্যন্ত পৌঁছে দিতে হবে।