‘এই অপমান আমার প্রাপ্য নয়!’ একুশের মঞ্চ ছেড়ে চরম ক্ষোভে ফুঁসছেন কল্যাণ

‘এই অপমান আমার প্রাপ্য নয়!’ একুশের মঞ্চ ছেড়ে চরম ক্ষোভে ফুঁসছেন কল্যাণ

একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে বক্তব্য রাখা নিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বচসা! আর তার জেরে চরম ক্ষুব্ধ শ্রীরামপুরের দাপুটে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রকাশ্যেই দলের প্রতি অভিমান ও ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি জানালেন, এই অপমান তাঁর প্রাপ্য ছিল না।

ঠিক কী ঘটেছিল একুশের মঞ্চে?

  • দীর্ঘ ভাষণ: বিড়লা প্ল্যানেটেরিয়ামের কাছে আয়োজিত তৃণমূলের সমাবেশে বক্তার তালিকা ছিল দীর্ঘ। তাই শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে সবাইকে সংক্ষেপে বক্তব্য শেষ করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, সেই নির্দেশ অমান্য করে মঞ্চে প্রায় সাড়ে ২২ মিনিট ধরে ভাষণ দেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • মমতার অসন্তোষ: দলীয় সূত্রের খবর, ভাষণ চলাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ইশারা করে কল্যাণকে থামতে বলেন। কুণাল ঘোষও তাঁকে থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি তা উপেক্ষা করে বক্তব্য চালিয়ে যান।
  • সভা ত্যাগ: বক্তব্য শেষের পর দীর্ঘ ভাষণ দেওয়া নিয়ে দলনেত্রীর সঙ্গে তাঁর সামান্য বচসা হয়। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের জন্য অপেক্ষা না করেই চরম অসন্তোষ নিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে বেরিয়ে যান কল্যাণ।

ক্ষোভে ফেটে পড়লেন কল্যাণ

নির্ধারিত সময়ের বেশি কথা বলার যাবতীয় অভিযোগ অবশ্য সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিয়েছেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “আমি যখন কথা বলছিলাম, তখন অভিষেক মঞ্চে আসে, তাই আমাকে থামতে হয়েছিল। এরপর দিদি এলে আমি আবারও বক্তব্য থামিয়ে দিই। আমি নির্ধারিত সময়ের বেশি কথা বলিনি।”

দলের প্রতি আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “এই ধরনের অপমান আমার প্রাপ্য নয়। আমি অত্যন্ত মর্মাহত। দলের দুঃসময়ে যখন সবাই ছেড়ে চলে গিয়েছিল, তখন আমি কঠিন লড়াই করেছি। আমার সঙ্গে এমন আচরণ হওয়া উচিত হয়নি।”

একুশের মঞ্চের মতো হাই-ভোল্টেজ ইভেন্টে খোদ দলনেত্রীর সঙ্গে সাংসদের এই অন্তর্দ্বন্দ্ব ও বিস্ফোরক মন্তব্যে স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তি বেড়েছে ঘাসফুল শিবিরে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *