‘শান্তি ও ধৈর্যের জয়!’ শিক্ষামন্ত্রীর পতনে উৎসবে মাতলেন যন্তর-মন্তরের আন্দোলনকারীরা

‘শান্তি ও ধৈর্যের জয়!’ শিক্ষামন্ত্রীর পতনে উৎসবে মাতলেন যন্তর-মন্তরের আন্দোলনকারীরা

NEET-UG প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্ক এবং দেশজুড়ে চলা তীব্র ছাত্র আন্দোলনের জেরে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। আর তাঁর এই পদত্যাগের পরেই সামনে এল বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের প্রথম প্রতিক্রিয়া। দিল্লির যন্তর-মন্তরে আমরণ অনশনে বসে থাকা ওয়াংচুক এই ঘটনাকে সোজাসুজি ‘গণতন্ত্রের বিজয়’ বলে অভিহিত করেছেন।

‘সরাসরি রাজপথ থেকে উঠে আসা বিজয়’

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে সোনম ওয়াংচুক লিখেছেন, “এটি গণতন্ত্রের বিজয়। এটি সরাসরি গণতন্ত্রের বিজয়, সরাসরি রাজপথ থেকে আসা বিজয়। এটি শান্তি, ধৈর্য এবং নিরন্তর সংগ্রামেরও বিজয়।” তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বরই সবচেয়ে বড় শক্তি। যখন দেশের নাগরিকরা শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের অধিকার ও দাবির পক্ষে আওয়াজ তোলেন, তখন তার প্রভাব যে কতটা সুদূরপ্রসারী হতে পারে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ।

সিজেপি ও ‘জেন জি’ পড়ুয়াদের বিশেষ অভিনন্দন

দেশজুড়ে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) এবং উদীয়মান ‘জেন জি’ (Gen Z) পড়ুয়ারা যেভাবে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও নিজেদের অধিকারের দাবিতে লাগাতার ও জোরালো আন্দোলন চালিয়ে গেছেন, তাঁদের ভূয়সী প্রশংসা করে অভিনন্দন জানিয়েছেন ওয়াংচুক। পাশাপাশি, ভয় ও ত্রাসের পরিবেশকে দূরে সরিয়ে রেখে যে সমস্ত সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে এই গণআন্দোলনকে সমর্থন জুগিয়েছেন, তাঁদের প্রতিও তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

‘এখন সময় সংস্কারের দিকে এগিয়ে যাওয়ার’

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগকে আন্দোলনের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে উল্লেখ করে সোনম ওয়াংচুক বার্তা দিয়েছেন যে, কেবল পদত্যাগেই সব শেষ নয়। পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো বেআইনি চক্র চিরতরে বন্ধ করা এবং দেশের ছাত্রসমাজের মনে সরকারের ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনতে এখন সুনির্দিষ্ট ও কঠোর সংস্কার বাস্তবায়ন করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।

যন্তর-মন্তরে উৎসবের আমেজ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

এদিকে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবর সামনে আসতেই দিল্লির যন্তর-মন্তরে আন্দোলনরত পড়ুয়া ও সমর্থকদের মধ্যে খুশির হাওয়া বইতে শুরু করে। উৎসবে মেতে ওঠেন বিক্ষোভকারীরা। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা এই ঘটনাকে তাঁদের আন্দোলনের ঐতিহাসিক জয় বলে অভিহিত করেন। সূত্রের খবর, নৈতিক দায়িত্ব স্বীকার করেই ধর্মেন্দ্র প্রধান নিজে থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। ২০২১ সাল থেকে শিক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলানো এই প্রবীণ নেতার পদত্যাগের ঘটনা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *