“দেশ না পুড়িয়েও লড়া যায়!” ভারতের তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে আবেগঘন বার্তা গীতাঞ্জলি অ্যাংমোর

শিক্ষার্থীদের মাসব্যাপী তীব্র আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে ভারতের নতুন প্রজন্মের এক ঐতিহাসিক বিজয় বলে অভিহিত করলেন পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে অ্যাংমো। তাঁর মতে, ভারতের তরুণ বা ‘জেন জি’ (Gen Z) প্রজন্মই গোটা বিশ্বকে সত্যিকারের ‘বিশ্বগুরু’ হয়ে ওঠার পথ দেখিয়ে দিয়েছে।
প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ছাত্র আন্দোলনের জেরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এই পদত্যাগের খবর প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) একটি আবেগঘন বার্তা পোস্ট করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অন্যতম মুখ গীতাঞ্জলি অ্যাংমো। সেখানে তিনি লেখেন, “ভারতকে ‘বিশ্বগুরু’ হিসেবে গড়ে তোলা বলতে কী বোঝায়, তা যদি কেউ হাতে-কলমে দেখিয়ে থাকে—তবে তা আমাদের এই জেন জি প্রজন্মই করেছে।” উল্লেখ্য, কেন্দ্র সরকার অতীতে বহুবার ভারতকে ‘বিশ্বগুরু’ বা বিশ্বের পথপ্রদর্শক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার কথা বললেও, তরুণরাই এর আসল অর্থ ফুটিয়ে তুলেছে বলে তাঁর দাবি।
তরুণ প্রজন্মের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে গীতাঞ্জলি আরও লেখেন, “তারা সনাতন ধর্মকে কেবল মুখে প্রচার করেনি, বরং নিজেদের আচরণে তা ধারণ করেছে। তাদের মধ্যে হিংসা ছাড়াই প্রবল সাহস ছিল, সহিংসতা ছাড়া অদম্য শক্তি ছিল এবং অন্ধ আনুগত্য ছাড়াই ছিল খাঁটি দেশপ্রেম।” বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা টেনে তিনি যোগ করেন, নিজ দেশকে পুড়িয়ে ছারখার বা ধ্বংস না করেও কীভাবে অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া যায়, তা শিখিয়েছে এই নতুন প্রজন্ম।
ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র নেতৃত্বে দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলন চরম রূপ নেয়। পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক এই আন্দোলনে যোগ দিয়ে টানা ২৬ দিন ধরে আমরণ অনশন শুরু করলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। অনশন চলাকালীন আদালতের নির্দেশে দিল্লি পুলিশ তাঁকে জোরপূর্বক সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করলেও তিনি অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। পরবর্তীতে বিজেপি নেতা জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং আন্দোলনকারীদের সমস্ত দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে, চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে নিজের অনশন ভাঙেন ওয়াংচুক।
উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই যন্তর মন্তর থেকে আন্দোলনকারীরা সংসদের দিকে মিছিল করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে, যার ফলে আন্দোলন আরও তীব্র আকার নেয়। সরকারের তরফ থেকে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে অনড় থাকেন ছাত্র-ছাত্রীরা, যার ফলস্বরূপ অবশেষে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন মন্ত্রী।