উইপোকার মতো শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে আরএসএস, ধর্মেন্দ্রর পদত্যাগের পরেই তোপ রাহুলের

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফাকে দেশের ছাত্রসমাজ ও তরুণ প্রজন্মের ‘ঐতিহাসিক জয়’ বলে অভিহিত করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তবে মন্ত্রীর পদত্যাগেই এই লড়াই শেষ হচ্ছে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। রাহুলের দাবি, ধর্মেন্দ্র প্রধান কেবল দুর্নীতি ও অক্ষমতার প্রতীক মাত্র; আসল আঘাতটি এসেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ বা আরএসএস-এর কাছ থেকে, যারা উইপোকার মতো দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ভেতর থেকে ফাঁপা করে দিয়েছে।
ধর্মেন্দ্রর ইস্তফার খবর সামনে আসার পর আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি, পুলিশি দমনপীড়ন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ভূমিকা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানান রাহুল। তিনি বলেন, অতীতে যে শিক্ষা ব্যবস্থা সারা বিশ্বে সমাদৃত ছিল, গত কয়েক বছর ধরে বেসরকারীকরণ ও দখলের রাজনীতির জেরে তার ওপর ধারাবাহিক আক্রমণ চালানো হচ্ছে। ধর্মেন্দ্রর প্রস্থান স্বস্তির হলেও, শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারে সরকারকে অবিলম্বে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ করতে হবে বলে মত তাঁর।
শিক্ষাক্ষেত্রে এই বিপর্যয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পাশাপাশি সমপরিমাণে আরএসএস-কে দায়ী করেন রাহুল। তাঁর অভিযোগ, সঙ্ঘ পরিবারের আদর্শ ও কার্যপ্রণালী উইপোকার মতো কাজ করে দেশের জ্ঞানচর্চাকে ধ্বংস করেছে।
শিক্ষামন্ত্রীর বিদায়ের পরেও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বাকি দাবিগুলি জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন কংগ্রেস নেতা। তিনি দাবি করেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর যারা হামলা চালিয়েছে, সেই নির্দেশদাতা ও বাস্তবায়নকারী— উভয় পক্ষকেই চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে দেশজুড়ে ঘটে যাওয়া এই অনিয়ম ও ছাত্র নিগ্রহের দায় স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে প্রকাশ্য ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অত্যাচারের পেছনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হাত রয়েছে বলে সরাসরি অভিযোগ তোলেন রাহুল। তাঁর কথায়, ছাত্রসমাজের ওপর এই প্রাণঘাতী আক্রমণ অত্যন্ত গুরুতর বিষয় এবং আসন্ন সংসদ অধিবেশনে এ নিয়ে কেন্দ্রকে তীব্র জবাবদিহির মুখে পড়তে হবে।
সোমবার থেকে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র যৌথ বৈঠকেই পরবর্তী রণকৌশল নির্ধারিত হবে বলে জানান রাহুল। প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ভারত সরকারের কোনো ব্যক্তিগত জমিদারি নয়। যদি এই ভুল নীতি থেকে সরকার না ফেরে, তবে এই ছাত্র আন্দোলন ভবিষ্যতে বহুগুণ বৃহত্তর রূপ নেবে। পরিশেষে রাহুল দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন, কংগ্রেস সবসময় এই আন্দোলনের পাশে রয়েছে এবং ভারতের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নরেন্দ্র মোদী ও আরএসএস-এর মতো অন্ধকার অতীতকে নিশ্চিতভাবেই পরাজিত করবে।