সেবাশ্রয়ের নামে প্রতারণা! চিকিৎসায় দেরিতে বাদ গেল আড়াই বছরের শিশুর হাত, অভিষেককে চরম হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

সেবাশ্রয় ক্যাম্পের চিকিৎসা ব্যবস্থার গাফিলতিতে আড়াই বছরের এক শিশুর ডান হাত বাদ যাওয়ার ঘটনায় উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এই ঘটনায় শাসক দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এই ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ শানান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
বিষ্ণুপুর থানার বোরহানপুরের বাসিন্দা চিত্তরঞ্জন মান্না ও রুমা মান্না দম্পতির অভিযোগ, ২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি তাঁরা তাঁদের অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে পৈলানের মডেল সেবাশ্রয় ক্যাম্পে যান। তাঁদের দাবি, ওই ক্যাম্পেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁদের দেখা হয় এবং তিনি শিশুটির সমস্ত চিকিৎসা ও পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এমনকি, ২০২৫ সালের ‘নিঃশব্দ বিপ্লব’ বইয়ের ২৩ নম্বর পাতায় ওই শিশুর ছবিও প্রকাশিত হয়। তবে পরিবারের অভিযোগ, প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পর ছয় মাস কেটে গেলেও কোনও সাহায্য মেলেনি।
অবস্থার অবনতি হলে বাধ্য হয়ে বাবা-মা শিশুটিকে বেঙ্গালুরু নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকরা জানান যে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে, যার ফলে কাঁধের কাছ থেকে শিশুটির ডান হাত বাদ দিতে হয়। দীর্ঘদিন চুপ থাকার পর রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ওই দম্পতি বারুইপুর থানায় এফআইআর দায়ের করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান।
শনিবার বিধানসভায় এই প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু অধিকারী ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। তিনি অভিযোগ করেন, “সেবাশ্রয়ের নামে খুন করা হয়েছে।” অভিষেককে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে এই অপরাধের জন্য তাঁর চরম শাস্তির দাবিও জানান বিরোধী দলনেতা।
বিরোধী দলনেতার এই প্রতিবাদের খবর পৌঁছানোর পর স্বস্তি ও আশার আলো দেখছেন শিশুটির বাবা-মা। মুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী দলনেতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে দম্পতি সঠিক বিচার ও শাস্তির দাবি তুলেছেন। মা রুমা মান্না আক্ষেপ করে বলেন, “সারা জীবনের মতো মেয়ের ডান হাতটা চলে গেল।” বাবা চিত্তরঞ্জন মান্না জানান, সেবাশ্রয়ে গিয়ে তাঁরা আশার বুক বাঁধলেও আজ তাঁদের মেয়ের হাত কেটে বাদ দিতে হয়েছে।
বর্তমানে শিশুটির আরও দুটি অস্ত্রোপচার বাকি রয়েছে এবং প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে এই ব্যয়ভার বহন করা আসাম্ভব হওয়ায় মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার এবং শুভেন্দু অধিকারীর সহযোগিতা ও পাশে দাঁড়ানোর আকুল আবেদন জানিয়েছেন অসহায় দম্পতি।