সম্পত্তির লোভেই কি খুন? কেতন হত্যা মামলায় সিয়ার ভাই সাহিলের ভূমিকা নিয়ে জল্পনা!

সম্পত্তির লোভেই কি খুন? কেতন হত্যা মামলায় সিয়ার ভাই সাহিলের ভূমিকা নিয়ে জল্পনা!

সম্পত্তির লোভের বশবর্তী হয়েই কি কেতনের বোনকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন সিয়ার ভাই সাহিল? আর সেই সূত্রেই কি পুনের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালকে খুনের ছক কষা হয়েছিল? লোহাগড় হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে এমনই সব চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই মামলার মূল অভিযুক্ত সিয়া গোয়েলের ভাই সাহিল গোয়েল বর্তমানে সন্দেহভাজনের তালিকায় রয়েছেন এবং তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও তাঁকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়নি, তবুও তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন যে ক্রিকেট খেলার মাধ্যমেই সহ-অভিযুক্ত চেতন চৌধুরীর সঙ্গে সিয়ার পরিচয় হয়েছিল। এই পুরো ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সাহিলের কোনো পূর্বের ধারণা ছিল কি না, তা নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যে সাহিলের একটি কীর্তি নিয়ে ব্যাপক গুঞ্জন শুরু হয়েছে। নেটিজেনদের ধারণা, কেতন মারা গেলে তাঁর সমস্ত সম্পত্তির মালিক হবেন তাঁর বোন। আর সেই কারণেই কেতনের বোনকে বিয়ে করলে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির অধিকার পাওয়া যাবে—এমন পরিকল্পনা থেকেই সাহিলও এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে থাকতে পারেন। তবে এই বিষয়ে পুলিশ এখনও পর্যন্ত কোনো জোরালো বা উপযুক্ত প্রমাণ হাতে পায়নি।

শুরুতে পুনের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের মৃত্যুকে স্রেফ একটি দুর্ঘটনা বলেই মেনে নিয়েছিল তাঁর পরিবার। বাগদত্তা সিয়া গোয়েলের সঙ্গে লোহগড় দুর্গে ট্রেকিংয়ে গিয়ে খাদে পড়ে কেতনের মৃত্যু হয়। সিয়ার দাবি ছিল, ছবি তোলার সময় পোজ দিতে গিয়েই পা ফসকে নিচে পড়ে যান কেতন। কিন্তু কেতনের বোন কিছুতেই এই ঘটনা সহজে মেনে নিতে পারেননি। তাঁর মনে বারবার প্রশ্ন জেগেছিল, কীভাবে এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে?

কিছুদিন পর সিয়া যখন কেতনের বাড়িতে সান্ত্বনা জানাতে যান, তখন বোন তাঁর কাছে পুরো ঘটনার বিস্তারিত জানতে চান। সিয়ার অসংলগ্ন কথা ও বারবার প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়ার ভঙ্গি দেখে বোনের সন্দেহ আরও গভীর হয়। পরিবারের জোরাজুরিতে পুলিশ নতুন করে তদন্ত শুরু করে এবং তল্লাশিতে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। তদন্তে জানা যায়, সিয়ার সঙ্গে চেতন চৌধুরী নামের এক যুবকের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে এক ব্যক্তিকে হুডি পরে তাঁদের পিছু নিতেও দেখা যায়। পুলিশি জেরার মুখে অবশেষে সামনে আসে যে, সিয়া ও চেতন মিলে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় কেতনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিল এবং পুরো ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার ফন্দি এঁটেছিল। কেতনের বোনের নাছোড়বান্দা মনোভাব এবং সঠিক সময়ে সঠিক প্রশ্ন তোলার ফলেই পুলিশের কাছে এই নিখুঁত খুনের ছক শেষপর্যন্ত ধরা পড়ে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *