বিধানসভার অন্দরে বিস্ফোরক অভিযোগ, ১৩ জন বিধায়কের স্বাক্ষর জাল!

বিধানসভার অন্দরে বিস্ফোরক অভিযোগ, ১৩ জন বিধায়কের স্বাক্ষর জাল!

কলকাতা: বিধানসভার অধিবেশন শেষ হওয়ার পর শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষের সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে গণতান্ত্রিক পরিসরকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “দল বা সংখ্যার বিচারে নয়, প্রতিটি বিধায়কই মানুষের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি। তাই সকলের মতামত ও অংশগ্রহণকে সমান গুরুত্ব দিয়েই বিধানসভার কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া উচিত।”

এবারের বিধানসভায় ৭৫ শতাংশেরও বেশি সদস্য প্রথমবার নির্বাচিত হয়ে এসেছেন বলে তিনি জানান। নতুন বিধায়কদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও আলোচনা নিয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, বিধানসভার কার্যক্রম এবার সরাসরি সম্প্রচার, ইউটিউব এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও জাতীয় সংবাদমাধ্যমে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা জাতীয় স্তরেও নতুনভাবে পরিচিতি লাভ করেছে।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “শুরু থেকেই আমাদের লক্ষ্য ছিল বিধানসভাকে আরও প্রাণবন্ত ও ফলপ্রসূ করে তোলা। সেই কারণেই বিরোধীদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় সে বিষয়ে তিনি অন্য কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১৩ জন বিধায়কের স্বাক্ষর জাল বা বিকৃত করার অভিযোগ তুলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর দাবি, “যাঁরা ওই বৈঠকে উপস্থিতই ছিলেন না, তাঁদের স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে ঘটেনি।” তাঁর কথায়, “আমরা প্রত্যেকেই সাড়ে চার থেকে পাঁচ লক্ষ মানুষের প্রতিনিধি। এই ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে মর্যাদা দেয় না।”

বিধায়কদের কাজের পরিবেশ নিয়ে ও সরব হন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “দেশের একাধিক রাজ্যে বিধায়কদের উন্নয়নমূলক কাজের জন্য অধিক সুযোগ ও তহবিল দেওয়া হয়।” ঝাড়খণ্ড, উত্তরপ্রদেশ-সহ বিভিন্ন রাজ্যের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি জানান, সেখানে বিধায়কদের জন্য উন্নয়ন তহবিল এবং অতিরিক্ত প্রকল্প বরাদ্দের ব্যবস্থা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও জনপ্রতিনিধিদের কাজ করার জন্য সেই ধরনের পরিকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

বিধায়ক আবাসনের বর্তমান পরিকাঠামোকে অত্যন্ত নিম্নমানের বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, ভবিষ্যতে আধুনিক ও উন্নত বিধায়ক আবাস নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে মানুষের সঙ্গে বৈঠক, ডিজিটাল যোগাযোগ এবং প্রশাসনিক কাজের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। তাঁর কথায়, “একজন বিধায়কের কাজের পরিবেশের সূচনা হওয়া উচিত তাঁর আবাস থেকেই, আর তার পরিসমাপ্তি হওয়া উচিত মানুষের এলাকায়।”

নিজের বিগত দিনের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, সেই সময় তাঁকে কোনো প্রশাসনিক বৈঠকে ডাকা হতো না, এমনকি স্বাধীনতা দিবসের আমন্ত্রণপত্রও দেওয়া হতো না। তাঁর দাবি, বর্তমান ব্যবস্থা সেই রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে বিরোধীদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা ও সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তুলেছে। গণতন্ত্রে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার পরিবেশ বজায় রাখাই বিধানসভার মূল শক্তি হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *