দক্ষিণ দিনাজপুরের ৬৬টি সীমান্ত গ্রাম এবার ‘ভাইব্রান্ট ভিলেজ’, বরাদ্দ কোটিরও বেশি টাকা!

কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ৬৬টি সীমান্তবর্তী গ্রামকে ‘ভাইব্রান্ট ভিলেজ’ বা প্রাণবন্ত গ্রাম হিসেবে গড়ে তোলার এক বিরাট পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়িত করতে ইতিমধ্যেই রূপরেখা তৈরি করেছে জেলা প্রশাসন। এই গ্রামগুলির সার্বিক পরিকাঠামো উন্নত করার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার মোট ৩৫২ কিলোমিটার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকার মধ্যে এই বিশেষ গ্রামগুলি গড়ে তোলা হবে। এর জন্য প্রতিটি গ্রামের পেছনের উন্নয়নে বরাদ্দ করা হচ্ছে ৩ কোটি টাকা করে।
প্রকল্পের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- মূল পরিকাঠামো: প্রতিটি ‘ভাইব্রান্ট’ গ্রামে রাস্তা, বিদ্যুৎ, টেলিকম এবং ইন্টারনেট পরিষেবা আবশ্যিক করা হয়েছে।
- অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা: শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও পশুপালন সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা শতভাগ বাস্তবায়িত করা হবে।
- অন্তর্ভুক্ত এলাকা: বংশীহারী ও কুশমন্ডি ব্লক বাদে বালুরঘাট, হিলি, তপন, কুমারগঞ্জ এবং গঙ্গারামপুর সীমান্ত এলাকার গ্রামগুলি এই প্রকল্পের আওতায় চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে সবথেকে বেশি গ্রাম রয়েছে বালুরঘাট ব্লকে।
এ বিষয়ে দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসক বালা সুব্রমনিয়াম টি জানিয়েছেন, রাস্তা, বিদ্যুৎ, টেলিকম ও ইন্টারনেটের মতো প্রধান ব্যবস্থাগুলি তো থাকছেই, পাশাপাশি ওই গ্রামগুলির আর্থ-সামাজিক মানোন্নয়নের জন্য নতুন স্কিম তৈরি করা হচ্ছে। স্থানীয় মানুষজনকে এই স্কিমগুলির আওতায় আনা হবে। তাঁর মতে, আগে সীমান্ত উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিএডিপি (BADP) ফান্ড থাকলেও, বর্তমান এই নতুন উদ্যোগে গ্রামীণ এলাকার উন্নয়ন আরও অনেক বেশি শক্তিশালী হবে।
বালুরঘাটের বিধায়ক বিদ্যুৎ কুমার রায় জানান, তপনের বিধায়ক বুধরাই টুডুর উপস্থিতিতে জেলাশাসক, বিডিও এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কর্তাদের নিয়ে ইতিমধ্যে ব্লক ও জেলা স্তরে বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। সীমান্ত গ্রামগুলির পরিকাঠামো ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নই তাঁদের মূল লক্ষ্য।