কীভাবে বাড়বে বঙ্গের রাজস্ব? বিধানসভায় বড় সড় পরিকল্পনার কথা জানালেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত

রাজ্যের রাজস্ব কীভাবে বৃদ্ধি পাবে, সেই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় গুরুত্বপূর্ণ রূপরেখা পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। শনিবার বিধানসভায় ক্যাগ রিপোর্টসহ একাধিক বিষয়ে বক্তব্য রাখেন তিনি। রাজ্য বাজেট ও রাজস্ব বৃদ্ধি নিয়ে বিশেষ বার্তার পাশাপাশি মদ বিক্রি নিয়ে চলা বিভিন্ন চর্চারও জবাব দেন অর্থমন্ত্রী।
এই প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান, পেশাগত কর বা প্রফেশনাল ট্যাক্স নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন, করের বোঝা না বাড়িয়ে বরং সরকারি খরচ সীমাবদ্ধ রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দ্বৈত করের (Double Taxation) সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি জানান, তেমনটা হলে তা চিন্তার বিষয় হতো, কিন্তু রাজ্যে সেই পরিস্থিতি নেই।
সরকারি কর্মীদের দেওয়া আয়কর রাজ্যের কোষাগারেই জমা পড়ে, তবে অন্যান্য রাজ্যের মতো এখানেও সরকারি কর্মীর সংখ্যা কমছে এবং বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্মী বাড়ছে। এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই রাজস্ব বাড়ানোর নতুন ভাবনাচিন্তা চলছে। অর্থমন্ত্রীর মতে, ইনফরমাল বা অসংগঠিত ক্ষেত্রকে ফরমাল অর্গানাইজড সেক্টরে আনতে পারলে রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বর্তমান প্রবণতা অনুযায়ী রাজ্য থেকে প্রায় ১৮ শতাংশ রাজস্ব বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
কিন্তু ঠিক কী উপায়ে এই রাজস্ব আদায় হবে? সেই বিষয়েও রূপরেখা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। বিগত রাজ্য সরকার খনিজ ক্ষেত্রকে আয়কর ছাড় দিয়েছিল, এবার সেই ক্ষেত্রটিকে পুনরায় কর কাঠামোর আওতায় আনা হচ্ছে। স্বপন দাশগুপ্ত জানান, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া (On-going Project), যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর সাহায্য নেওয়া এবং নজরদারি বা পুলিশিং বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যবসা বাড়লে তার সুফল রাজ্যের কোষাগারেও আসবে। আগে রাজ্যে জিএসটি কালেকশন কম হতো, তা বৃদ্ধি পেলে রাজ্যের আয়ও বাড়বে।
অর্থনীতি ও রাজনীতির মেলবন্ধনে অর্থমন্ত্রী জানান, প্রথাগত অর্থনীতিবিদরা হয়তো সরাসরি কর বা আয়কর বাড়ানোর পথ বেছে নিতেন, কিন্তু সরকার সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা চাপাতে চায় না। আগামী দিনেও মানুষের স্বস্তি বজায় রেখেই রাজস্ব বৃদ্ধির কাজ চালিয়ে যাওয়া হবে—বিধানসভায় এমনটাই স্পষ্ট করে দিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।