নানুরে শহিদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে চরম বিক্ষোভ, কাজল শেখকে লক্ষ্য করে ‘ডিম ছোঁড়া’ ও ‘চোর’ স্লোগান!

নানুরে শহিদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে চরম বিক্ষোভ, কাজল শেখকে লক্ষ্য করে ‘ডিম ছোঁড়া’ ও ‘চোর’ স্লোগান!

নানুরের ঐতিহ্যবাহী শহিদ দিবসে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাতে গিয়ে চরম বিক্ষোভ ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখে পড়লেন বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা হাঁসন কেন্দ্রের বিধায়ক ফায়েজুল হক ওরফে কাজল শেখ। তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার পাশাপাশি উঠল ‘চোর চোর’ স্লোগানও। নিজের এলাকাতেই এভাবে অপদস্থ হওয়ায় তীব্র অস্বস্তিতে পড়েছেন এই তৃণমূল নেতা।

ঘটনা প্রসঙ্গে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কাজল শেখ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বাংলার মানুষ এই ধরনের নোংরামি ভালোভাবে মেনে নেবে না।”

উল্লেখ্য, ২০০০ সালের ২৭ জুলাই সকালে বীরভূমের নানুর থানার সুচপুর গ্রামে ১১ জন ক্ষেতমজুরকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি ছিল, নিহতরা সকলেই তাঁদের কর্মী-সমর্থক এবং এই ঘটনার পেছনে হাত ছিল তৎকালীন শাসকদল সিপিএমের। সে সময় কেন্দ্রের এনডিএ সরকারের রেলমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরদিনই সেখানে পৌঁছান। পরবর্তীতে ২০০১ সাল থেকে প্রতি বছর নানুরের বাসাপাড়ায় তৃণমূলের উদ্যোগে ‘শহিদ সভা’ পালিত হয়ে আসছে। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার আগে পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই এই সভার প্রধান আকর্ষণ ছিলেন। পরবর্তীতে তৃণমূল ক্ষমতায় এলে এই সভার দায়িত্ব নেন দলের তৎকালীন বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। তবে কাজল শেখের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ানোর পর একসময় অনুব্রতও এই সভায় আসা বন্ধ করে দেন।

সোমবারে নানুরের বাসাপাড়ায় শহিদ বেদিতে শুধুমাত্র পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে পৌঁছেছিলেন কাজল শেখ। সঙ্গে ছিলেন নানুরের বিধায়ক বিধান মাঝি। কিন্তু কাজল শেখ এলাকা ছাড়ার মুখে সেখানে উপস্থিত কিছু মানুষ আচমকাই তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন।

অভিযোগ, সভাধিপতিকে লক্ষ্য করে ডিমও ছোড়া হয়। তবে কাজল শেখ শহিদ বেদির প্রাঙ্গণের ভেতরে থাকায় ডিম সরাসরি তাঁর গায়ে লাগেনি। পরে নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত ছাতা দিয়ে তাঁকে আড়াল করে গাড়িতে তোলেন। এ সময় তাঁর গাড়িতেও ডিম মারা হয় বলে জানা গেছে।

নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে কাজল শেখ বলেন, “কিছু সমাজবিরোধী এই নোংরামি করেছে। আমি ওদের চিনতে পেরেছি। ওরা কোনোদিন কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে মনে হয় না। টাকার বিনিময়ে কিছু মানুষ ওদের দিয়ে এই কাজ করিয়েছে। আমি পুলিশের অনুমতি নিয়েই এখানে এসেছি এবং পুলিশ যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে। দুষ্কৃতীদের দেখা মাত্রই এলাকা ছাড়া করা হয়েছে। আমার গায়ে ডিম লাগেনি, গাড়িতে লেগেছে। পুলিশ নিশ্চয়ই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেবে।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *