এনডিএ বৈঠকের আগে নবান্নে শুভেন্দু-সুদীপের রুদ্ধদ্বার বৈঠক, রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা!

আজকের এনডিএ (NDA)-এর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ঠিক আগে রাজ্যের রাজনীতিতে এক অভাবনীয় ও চাঞ্চল্যকর মোড়। সোমবার নবান্নে রাজ্য সচিবালয়ে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী সাংসদ তথা এনসিপিআই (NCPI) নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠককে কেন্দ্র করে বাংলার রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষ সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় শুভেন্দু অধিকারীর শেষ মুহূর্তে দিল্লি সফর বাতিল করার সিদ্ধান্ত এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দিল্লিতে বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদের সঙ্গে শুভেন্দুর সরাসরি বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও, শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করে তিনি ফোনে বেশ কয়েকজন শীর্ষ সাংসদের সঙ্গে কথা বলেন।
এদিকে, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মমতাপন্থী তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, দলত্যাগকারী ওই ২০ জন সাংসদের সদস্যপদ অবিলম্বে খারিজ করা হোক এবং ১৯৮৫ সালের দলত্যাগ বিরোধী আইনের ৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ করা হোক।
উল্লেখ্য, লোকসভার স্পিকার এখনও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়দের নতুন দল এনসিপিআই-কে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেননি। তা সত্ত্বেও সুদীপ ও কাকলি ঘোষ দস্তিদাররা ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন যে তাঁরা সংসদে এনডিএ-কে সমর্থন জানাবেন। বর্তমান এই ২০ জন সাংসদের শক্তি নিয়ে এনসিপিআই পৃথক সংসদীয় দল হিসেবে স্বীকৃতি পেলে, লোকসভায় তারা এনডিএ-র অন্যতম বৃহৎ শরিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই গোপন বৈঠক আগামী দিনে জাতীয় এবং রাজ্য রাজনীতিতে নতুন কোনো বড় সমীকরণের জন্ম দেয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।