এক ট্যাবলেটেই ‘ব্যাড’ কোলেস্টেরল কমবে ৬০ শতাংশ, FDA-র অনুমোদন পেল ‘লিপফেন্ড্রা’
হৃদরোগের চিকিৎসায় এক যুগান্তকারী মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। রক্তে ক্ষতিকর এলডিএল (LDL) বা ব্যাড কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশ্বের প্রথম খাওয়ার ওষুধ বা ওরাল ‘পিসিএসকে৯ ইনহিবিটর’ (PCSK9 Inhibitor) ‘লিপফেন্ড্রা’ (Lipfendra)-কে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA)। প্রতিদিন নিয়ম করে একটি ট্যাবলেট খেলেই রক্তে থাকা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাবে, যা এতদিন কেবল ব্যয়বহুল ইঞ্জেকশনের মাধ্যমেই সম্ভব ছিল।
‘লিপফেন্ড্রা’ আসলে কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে?
লিপফেন্ড্রা হলো ‘পিসিএসকে৯’ ইনহিবিটর শ্রেণির প্রথম খাওয়ার ট্যাবলেট। এটি যকৃৎ বা লিভারকে রক্তে ভাসমান ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরল দ্রুত ছেঁকে বের করে দিতে সাহায্য করে। ফলে রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা অত্যন্ত দ্রুত ও কার্যকরভাবে হ্রাস পায়।
এটি কি স্ট্যাটিন জাতীয় সাধারণ কোলেস্টেরলের বিকল্প?
না। স্ট্যাটিন এখনও কোলেস্টেরল চিকিৎসার প্রধান এবং প্রথম পছন্দ হিসেবেই থাকবে। তবে সর্বোচ্চ মাত্রায় স্ট্যাটিন খাওয়ার পরেও যাঁদের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে আসছে না, কিংবা যাঁদের ইঞ্জেকশন নিতে ভীতি রয়েছে, লিপফেন্ড্রা তাঁদের জন্য একটি শক্তিশালী ও নিরাপদ বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।
গবেষণা কী বলছে?
৩,২০৭ জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির উপর পরিচালিত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্যের উপর ভিত্তি করে এফডিএ এই অনুমোদন দিয়েছে। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ‘স্ট্যাটিন’ সেবন করা সত্ত্বেও অনিয়ন্ত্রিত এলডিএল-এর সমস্যায় ভুগছিলেন। ২৪ সপ্তাহ ধরে চলা এই গবেষণায় দেখা গেছে, লিপফেন্ড্রা গ্রহণকারী রোগীদের এলডিএল কোলেস্টেরল গড়ে ৫৬ থেকে ৫৯ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে, যা ব্যয়বহুল ইঞ্জেকশনের কার্যকারিতার প্রায় সমান।
কেন ব্যাড কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ জরুরি?
চিকিৎসক মহলে উচ্চ এলডিএল কোলেস্টেরল ‘নীরব ঘাতক’ (Silent Killer) হিসেবে পরিচিত। কারণ হৃদযন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়া পর্যন্ত এর কোনো স্পষ্ট উপসর্গ বা লক্ষণ বাইরে থেকে প্রকাশ পায় না। রক্তনালিতে চর্বি জমে তা ব্লক হয়ে গেলে হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
ভারতে কবে নাগাদ মিলবে এই ওষুধ?
আমেরিকায় এফডিএ অনুমোদন পেলেও ভারতীয় রোগীদের এই ওষুধের জন্য আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে। এ দেশের নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশে অনুমোদিত ওষুধ সরাসরি এখানে বিক্রি করা যায় না। এর জন্য সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজ়েশন (CDSCO)-র অনুমোদনের প্রয়োজন হয় এবং ক্ষেত্রবিশেষে ভারতীয় রোগীদের উপর এর অতিরিক্ত ট্রায়াল বা পরীক্ষা চালানোর প্রয়োজন হতে পারে।